চোখের জলে টেনিসের অমরদের কাতারে ফেদেরার

অনলাইন ডেস্কঃ
৩০ আগস্ট, ২০২৬ ৪:০৬ পিএম
শেয়ার করুন:
চোখের জলে টেনিসের অমরদের কাতারে ফেদেরার

ক্যারিয়ারজুড়ে একের পর এক শিরোপা জয়ের পর বহুবার আনন্দে কেঁদেছেন রজার ফেদেরার। তবে এবারের উপলক্ষ কোনো ট্রফি জয় নয়; বরং বিশ্ব টেনিসে তাঁর অনন্য অবদান ও দীর্ঘ পথচলার আনুষ্ঠানিক সর্বোচ্চ স্বীকৃতি। আন্তর্জাতিক টেনিস ‘হল অব ফেমে’ অন্তর্ভুক্তির মঞ্চে দাঁড়িয়ে আবেগ আর চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না এই সুইস কিংবদন্তি।

যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের নিউপোর্টে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেদেরারকে ‘হল অব ফেমে’ বরণ করে নেওয়া হয়। এই বিশেষ তালিকায় তাঁর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন সাবেক টেনিস খেলোয়াড়, প্রখ্যাত ধারাভাষ্যকার ও সাংবাদিক মেরি ক্যারিলো।

মঞ্চে ফেদেরারকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেন তাঁর স্ত্রী ও সাবেক টেনিস তারকা মিরকা। মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে পরিবার, কোচ, চিকিৎসক, সতীর্থ ও দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পাশে থাকা মানুষদের ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে বারবার কেঁদে ফেলেন ৪৫ বছর বয়সী ফেদেরার। 

আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, *“এটি আমার জীবনের অন্যতম সেরা সম্মান। জায়গাটির নাম ‘হল অব ফেম’ হতে পারে, কিন্তু খ্যাতি কখনো আমার লক্ষ্য ছিল না।”* তিনি জানান, টেনিস শুধু ট্রফি জেতা নয়; বরং নতুন কিছু সৃষ্টি করা এবং খেলাটিকে নিজের মতো করে মানুষের সামনে উপস্থাপন করাই ছিল তাঁর মূল উদ্দেশ্য।

কোর্টে নিখুঁত শিল্প ও বৈচিত্র্যের জন্যই ফেদেরার ছিলেন সবার চেয়ে আলাদা। নিখুঁত সার্ভ অ্যান্ড ভলি থেকে শুরু করে প্রতিপক্ষের সার্ভের সময় আচমকা সামনে চলে আসার নিজস্ব কৌশল—যা ‘স্নিক অ্যাটাক বাই রজার’ বা ‘এসএবিআর’ (SABR) নামে পরিচিত—টেনিসকে নতুন মাত্রা দিয়েছিল। মঞ্চে স্মৃতিকাতর হয়ে তিনি রসিকতার ছলে জানান, ক্যারিয়ারে তিনি ৫ হাজারের বেশি হেডব্যান্ড ব্যবহার করেছেন এবং প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই দুই জোড়া মোজা পরে কোর্টে নামতেন।

দুই দশকেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে ফেদেরার জিতেছেন মোট ২০টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম। যার মধ্যে রয়েছে পুরুষ এককে রেকর্ড ৮টি উইম্বলডন, ৬টি অস্ট্রেলিয়ান ওপেন, ৫টি ইউএস ওপেন ও একটি ফ্রেঞ্চ ওপেন শিরোপা। বিশ্বের এক নম্বর তারকা হিসেবে ৩১০ সপ্তাহ কাটানো ফেদেরার ক্যারিয়ারে মোট ১০৩টি এটিপি শিরোপা ঘরে তুলেছেন। আন্দ্রে আগাসি, লেইটন হিউইট ও অ্যান্ডি রডিকের যুগ থেকে শুরু করে রাফায়েল নাদাল ও নোভাক জোকোভিচদের মতো গ্রেটদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাকে তিনি নিজের পরম সৌভাগ্য বলে উল্লেখ করেন।

সুইজারল্যান্ডের বাসেলে মাত্র ১৩ বছর বয়সে বলবয় হিসেবে কোর্টের পাশে থাকা কিশোর ফেদেরারের বিশ্বজয়ী হয়ে ওঠার গল্পও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। দেশের নাম উজ্জ্বল করতে পেরে গর্ব প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের উদ্দেশে তিনি পরামর্শ দেন—সব সময় নিজেদের স্বকীয়তা বজায় রাখতে, ঝুঁকি নিতে এবং আধুনিক পেশাদারিত্বের যুগেও পারস্পরিক বন্ধুত্ব অটুট রাখতে।

২০২২ সালে লেভার কাপে নাদালের হাত ধরে অশ্রুসিক্ত নয়নে কোর্টকে বিদায় জানিয়েছিলেন ফেদেরার। চার বছর পর এই ঐতিহাসিক মঞ্চেও যেন সেই একই রূপ। বক্তব্যের শেষলগ্নে টেনিসের এই অমর নায়ক বলেন, “আমি এখনো টেনিসের প্রতি আমার ভালোবাসার চিঠি লিখে যাচ্ছি। খেলোয়াড় হিসেবে আমার অধ্যায় শেষ হতে পারে, কিন্তু টেনিসের সঙ্গে আমার এই সম্পর্কের কোনো বিদায় নেই।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।