শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে সরকার: মন্ত্রী

অনলাইন ডেস্কঃ
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:২৬ পিএম
শেয়ার করুন:
শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে সরকার: মন্ত্রী

শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতন প্রতিরোধে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন আইন, নীতিমালা, সেবাকেন্দ্র এবং সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। 

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের টেবিলে উপস্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

সুরক্ষায় আইনি পদক্ষেপ ও নতুন উদ্যোগ
নারী ও শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর বিবরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ‘জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১’, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০২৬’, ‘ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) আইন, ২০১৪ ও বিধিমালা-২০১৭’, ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ও বিধিমালা-২০১৮’ এবং ‘বাল্যবিবাহ নিরোধকল্পে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০১৮-২০৩০)’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে পুরোনো ‘পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০’ রহিত করে নতুন করে ‘পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দ্রুত বিচার ও ডিএনএ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক
মন্ত্রী জানান, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০২৬’ সংসদের প্রথম অধিবেশনেই পাস হয়েছে, যার আওতাধীন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের মামলার বিচার সম্পন্ন হবে। এছাড়া অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগীর সম্মতি থাকুক বা না থাকুক, ডিএনএ আইন-২০১৪ অনুযায়ী ডিএনএ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ২০২৫ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে ধর্ষণ মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত সম্পন্ন করার বিশেষ বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।

ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার ও সেল
নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের সমন্বিত সেবা দিতে সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে পর্যায়ক্রমে ৩৭টি ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) স্থাপন করা হবে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে চালু থাকা ১৪টি ওসিসি থেকে এ পর্যন্ত ৮২ হাজার ৬৭৮ জন ভুক্তভোগী চিকিৎসা, আইনি ও পুলিশি সহায়তা, মনোসামাজিক কাউন্সেলিং, পুনর্বাসন এবং সামাজিক পুনঃএকত্রীকরণসহ নানা সেবা পেয়েছেন।

এছাড়া জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপিত ৯৫টি ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেল থেকে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৭০ হাজার ৫২৩ জন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুকে প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হয়েছে।

হেল্পলাইন ১০৯-এর ভূমিকা
নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ২৪ ঘণ্টাব্যাপী সচল টোল-ফ্রি জাতীয় হেল্পলাইন ‘১০৯’ এর কার্যকারিতা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, এই হেল্পলাইনের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৮৮ লাখ ৪৬ হাজার ৯৪০ জন ভুক্তভোগী নারী ও শিশুকে তাৎক্ষণিক ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।