এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পে সরকারি ঘর বিক্রি, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত রাখা এবং পরিত্যক্ত ঘরে জুয়া, মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়েছে জেলা প্রশাসন। পাবনা জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামের নির্দেশনায় আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান।
মঙ্গলবার চর-ভাঙ্গুড়া, পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা, উপকারভোগী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি বিক্রি হয়ে যাওয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা ঘরগুলোর বর্তমান পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করা হয়।
এর আগে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২০-২১ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরের মধ্যে ভাঙ্গুড়া উপজেলায় নির্মিত ১০১টি আশ্রয়ণ ঘরের মধ্যে অন্তত ৩৫টি ঘর ৮০ হাজার থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ২৫টি ঘর দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব পরিত্যক্ত ঘরে নিয়মিত জুয়া, মাদক সেবনসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে, যা এলাকার সামাজিক পরিবেশ ও নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দিলে উপজেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে মাঠপর্যায়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। প্রশাসনের এই দ্রুত পদক্ষেপে স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাদের আশা, দীর্ঘদিনের অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে কার্যকর সমাধান নিশ্চিত হবে।
স্থানীয়দের মতে, আশ্রয়ণ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষের জন্য স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা। কিন্তু অনিয়ম ও তদারকির ঘাটতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে সেই লক্ষ্য ব্যাহত হয়েছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সরকারি ঘর পুনরায় বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সচেতন মহলের অভিমত, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের পর জেলা প্রশাসনের দ্রুত তৎপরতা সরকারি প্রকল্পে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। তদন্ত শেষে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পরিদর্শন শেষে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান বলেন, “জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। তদন্তে যেসব উপকারভোগী সরকারি আশ্রয়ণ ঘর বিক্রি করেছেন অথবা বরাদ্দ পাওয়ার পরও সেখানে বসবাস করছেন না, তাদের বরাদ্দ সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বাতিল করা হবে। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের নামে নতুন করে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হবে। সরকারের এই মানবিক প্রকল্পের কোনো ধরনের অপব্যবহার বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
রংপুর | ৮ অক্টোবর, ২০২৫
পিরোজপুর | ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
মাগুরা | ৫ অক্টোবর, ২০২৪
নোয়াখালী | ২৮ জুন, ২০২৬
ফরিদপুর | ২৮ জুন, ২০২৬
বাংলাদেশ | ২৮ জুন, ২০২৬
নোয়াখালী | ২৮ জুন, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।