মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে হওয়া মামলা নিয়ে এমপির পোস্ট

অনলাইন ডেস্কঃ
২৫ জুন, ২০২৬ ৪:০৬ পিএম
শেয়ার করুন:
মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে হওয়া মামলা নিয়ে এমপির পোস্ট

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মনিরুল হক চৌধুরী [১]। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন, মামলাটির ব্যাপারে তিনি আগে থেকে অবহিত ছিলেন না এবং পুরো বিষয়টি তাকে বিব্রত করেছে [১]। ইতোমধ্যে মামলাটি প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং বাদীও তা তুলে নিতে সম্মত হয়েছেন বলে সংসদ সদস্য নিশ্চিত করেছেন [১]।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী লেখেন, "সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, আমার নির্বাচনী এলাকা সদর দক্ষিণ থানায় চরমোনাই পীর মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে [১]। এ বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না এবং কে বা কারা এই মামলা করেছেন, তাও আমার জানা ছিল না।" [১]

তিনি আরও জানান, মামলার বিষয়টি জানার পর পরই তিনি নেতাকর্মীদের মাধ্যমে বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেন এবং মামলা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান [১]। তাঁর নির্দেশনা পেয়ে বাদী মামলা তুলে নিতে সম্মত হয়েছেন [১]। এ বিষয়ে কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নিতে তিনি সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও তাঁর ব্যক্তিগত আইনজীবীকে নির্দেশ দিয়েছেন [১]। 

পোস্টের শেষে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী উল্লেখ করেন, সংসদে সংঘটিত অনভিপ্রেত একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর যে অভিযোগ ছিল, তা তিনি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংসদেই লিখিতভাবে উপস্থাপন করেছেন [১]। তিনি সবসময় দেশের আইন, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার পক্ষে [১]।

যে অভিযোগে এই মামলা:
সম্প্রতি সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক, মানহানিকর ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করা হয় [১]। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুন বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও ইউটিউব চ্যানেলে সংসদ সদস্যের দাড়ি, টুপি ও পোশাক নিয়ে বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করা হয় [১]। এছাড়া একটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে তাঁকে ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগ নেতা’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রচার চালানো হয়, যা তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয় [১]।

বাদীর পরিচয় নিয়ে বিতর্ক:
এদিকে মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এই মামলাটি নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের একাংশের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে [১]। কুমিল্লা মহানগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ এবং মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব রোমান হাসান দাবি করেছেন, মামলার বাদী জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার যুবদলের কোনো স্বীকৃত বা দায়িত্বশীল নেতা নন [১]। অতীতে তিনি আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন [১]। বিগত সরকারের আমলে নির্যাতিত ও দেশের একজন শ্রদ্ধেয় আলেম মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে এমন মামলার উদ্দেশ্য নিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তোলেন [১]।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে মামলার বাদী জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার জানান, তাঁর নেতা মনিরুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ায় সংক্ষুব্ধ হয়ে তিনি মামলাটি করেছেন [১]। নিজের রাজনৈতিক পরিচয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি যে যুবদল কমিটির দায়িত্বে আছেন, সেটি কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষিত নয়, বরং সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর নিজস্ব ঘোষিত কমিটি [১]।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।