পুশইনে বিএসএফের নতুন কৌশল যেভাবে ভেস্তে দিল বিজিবি

অনলাইন ডেস্কঃ
২৪ জুন, ২০২৬ ১:০৮ পিএম
শেয়ার করুন:
পুশইনে বিএসএফের নতুন কৌশল যেভাবে ভেস্তে দিল বিজিবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) একের পর এক কৌশলী পুশইনের (অনুপ্রবেশ) চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় সীমান্তবাসী [১]। গত ১৬ দিনে সীমান্তে ৪টি বড় ধরনের অনুপ্রবেশের চেষ্টা রুখে দেওয়া হয়েছে [১]। এ সময় অনুপ্রবেশে সহায়তার অভিযোগে ইতোমধ্যে ৭ বাংলাদেশি দালালকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী [১]।

পুশইনে বিএসএফের নতুন কৌশলসমূহ

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুশইন সফল করতে বিএসএফ এখন ভৌগোলিক অবস্থান, বৈরী আবহাওয়া এবং মানুষের মনস্তাত্ত্বিক আবেগকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে [১]। নজরদারি এড়াতে প্রতিটি পুশইনের জন্যই তারা গভীর রাত কিংবা ভোরবেলাকে বেছে নিচ্ছে [১]। 

স্থলসীমান্তে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে বিএসএফ রুট পরিবর্তন করে নদীপথকে বেছে নিয়েছে [১]। চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোকনপুর নদী সীমান্ত দিয়ে গভীর রাতে নৌকাযোগে মানুষ ঢোকানোর চেষ্টা করছে তারা [১]। এই কাজে অর্থের বিনিময়ে বাংলাদেশের ভেতরের কিছু স্থানীয় দালাল ও মাঝির সঙ্গে তারা গোপন আঁতাত গড়ে তুলেছে [১]।

বিএসএফের অন্যতম কৌশল হলো পুশইনের শিকার হওয়া দলে নারী ও শিশুর সংখ্যা বেশি রাখা [১]। মানবিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে তারা এটি করছে, যাতে নারী ও শিশুদের সামনে দেখে বিজিবি কঠোর হতে না পারে [১]। এ ছাড়া জিরো লাইনে বিজিবি বাধা দিলে বিএসএফ তাদের সদস্যসংখ্যা বাড়িয়ে বিভিন্ন পোস্টে পাল্টা সেনা সমাবেশ ঘটিয়ে চাপ সৃষ্টির অপচেষ্টাও চালাচ্ছে [১]। তবে বিএসএফের এসব কৌশল বিজিবি ও স্থানীয় জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধের কারণে সফল হতে পারেনি [১]।

১৬ দিনে যেভাবে ৪টি অনুপ্রবেশের চেষ্টা ভন্ডুল হলো

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে গত ৪ জুন থেকে ২০ জুনের মধ্যে চার দফায় নারী ও শিশুসহ মোট ৬৪ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের অপচেষ্টা রুখে দেওয়া হয়েছে [১]।

৪ জুন: ভোররাত ৩টার দিকে প্রথম দফায় গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী এবং ৬ জন শিশুসহ মোট ২৮ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ [১]। তীব্র ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে জিরো লাইনে দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর, বিজিবি ও স্থানীয়দের শক্ত অবস্থানের মুখে পরদিন বিএসএফ তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় [১]।
১২ জুন: রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে একই উপজেলার রোকনপুর সীমান্তের নদীপথে নৌকাযোগে ২ জন পুরুষ, ৮ জন নারী এবং ৫ জন শিশুসহ মোট ১৫ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা টের পেয়ে বাধা দেয় বিজিবি [১]। প্রায় দুই ঘণ্টা জিরো লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর রাত ২টা ৪০ মিনিটের দিকে বিএসএফ তাদের ফিরিয়ে নেয় [১]।
১৫ জুন: রাত পৌনে ১১টার দিকে একই সীমান্ত দিয়ে এক নারীকে নৌকাযোগে পুশইনের চেষ্টা স্থানীয়দের সহায়তায় প্রতিহত করে বিজিবি [১]। এই ঘটনায় বিএসএফকে সহযোগিতার অভিযোগে ৪ স্থানীয় দালালসহ মোট ৭ বাংলাদেশিকে আটক করে পুলিশ ও বিজিবি [১]। চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত সহকারী পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ জানান, আটকদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে [১]।
২০ জুন: সর্বশেষ শনিবার ভোরে শিবগঞ্জ উপজেলার চৌকা সীমান্ত দিয়ে ৫ জন পুরুষ, ১১ জন নারী এবং ৪ জন শিশুসহ মোট ২০ জনকে জোর করে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ [১]। বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় গ্রামবাসীরাও লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলায় অনুপ্রবেশকারীরা বাংলাদেশে ঢুকতে পারেনি [১]।

বিজিবি কর্মকর্তাদের বক্তব্য

৫৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, "সীমান্ত দিয়ে কোনো ধরনের অবৈধ পুশইন কোনোভাবেই হতে দেওয়া হবে না [১]। বিএসএফের যেকোনো চতুর কৌশল নস্যাৎ করতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে [১]। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারি ও সার্বক্ষণিক টহল ব্যাহত রয়েছে [১]।"

১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, "এই ব্যাটালিয়নের আওতাধীন এলাকায় তিনবার পুশইনের অপচেষ্টা চালানো হয় [১]। বিজিবির অনড় অবস্থানের কারণে বিএসএফের প্রতিটি পুশইনের চেষ্টাই ভারতীয় অভ্যন্তরে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে [১]।"

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।