কুইরোজের ঘানায় আটকে গেল ইংল্যান্ড

অনলাইন ডেস্কঃ
২৪ জুন, ২০২৬ ১:১৩ পিএম
শেয়ার করুন:
কুইরোজের ঘানায় আটকে গেল ইংল্যান্ড

বলের দখল ছিল ইংল্যান্ডের পায়ে, কিন্তু ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ ছিল ঘানার কৌশলী ছকে। বোস্টনে বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এল’-এর ম্যাচে কার্লোস কুইরোজের শিষ্যদের রক্ষণব্যূহ ভাঙতে পারেনি থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড। জুড বেলিংহাম, হ্যারি কেইন কিংবা অ্যান্থনি গর্ডনদের মতো তারকাদের নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সে ঘানার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে থ্রি লায়নদের।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে দারুণভাবে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছিল ইংল্যান্ড। এই ম্যাচে ঘানাকে হারাতে পারলেই শেষ ৩২-এর টিকিট অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যেত টুখেলের দলের। তবে অভিজ্ঞ কোচ কার্লোস কুইরোজের নিখুঁত রক্ষণাত্মক কৌশল, মাঝমাঠে শারীরিক শক্তির লড়াই এবং গতিময় পাল্টা আক্রমণের সামনে খেই হারিয়ে ফেলে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

বোস্টন স্টেডিয়ামে মেঘলা আকাশ আর বৃষ্টির আবহাওয়ার মাঝেই গ্যালারি মাতিয়ে রেখেছিলেন ইংলিশ সমর্থকেরা। গ্যালারির পরিবেশ ঘরের মাঠের মতো হলেও, মাঠে তার প্রতিফলন দেখাতে পারেনি টুখেলের শিষ্যরা। ম্যাচের সিংহভাগ সময় বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখলেও প্রতিপক্ষের গোলমুখে কাঙ্ক্ষিত ধার দেখাতে পারেনি তারা। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে চার গোল করা ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগ এদিন ঘানার রক্ষণভাগে গিয়ে বারবার থমকে গেছে। বেলিংহাম বলের খোঁজে বারবার নিচে নেমে আসেন, কেইনকে বোতলবন্দী করে রাখেন ঘানার ডিফেন্ডাররা, আর গর্ডন-মাদুয়েকেরাও ঘানার জমাট রক্ষণে ফাটল ধরাতে ব্যর্থ হন।

শারীরিকভাবে শক্তিশালী ঘানার সঙ্গে লড়াইয়ে রক্ষণে স্থিতি আনতে টুখেল একাদশে কিছুটা পরিবর্তন এনেছিলেন। জন স্টোনস ও নিকো ও’রাইলির জায়গায় শুরু থেকেই খেলান মার্ক গেহি ও জেড স্পেন্সকে। রক্ষণে বড় কোনো বিপদে না পড়লেও মিডফিল্ড ও আক্রমণের সমন্বয়ের অভাবে সুবর্ণ সুযোগগুলো হাতছাড়া হয় ইংল্যান্ডের।

প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডের পক্ষে সবচেয়ে ভালো সুযোগটি পেয়েছিলেন ডেকলান রাইস। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তাঁর জোরালো শট অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। বিপরীতে ঘানার জোনাস আদজেতেই, জেরোম ওপোকু ও গিডিওন মেনসাহদের নিয়ে গড়া রক্ষণভাগ ছিল দারুণ সজাগ। মাঝমাঠে অভিজ্ঞ থমাস পার্টেও দারুণভাবে দলকে আগলে রাখেন। ফলে প্রথমার্ধে কোনো দলই প্রতিপক্ষের গোলমুখে অন টার্গেট শট নিতে পারেনি।

দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের চিত্রনাট্য খুব একটা বদলায়নি। দলের খেলায় গতি ফেরাতে বেলিংহামের জায়গায় মর্গান রজার্সকে নামানোর পাশাপাশি বুকায়ো সাকা ও মার্কাস র‍্যাশফোর্ডকেও মাঠে নামান টুখেল। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা মেলেনি। উল্টো মাঝেমধ্যে বিপজ্জনক পাল্টা আক্রমণে উঠে ইংল্যান্ড শিবিরে অস্বস্তি ছড়ায় জর্ডান আয়ু, ইনাকি উইলিয়ামস ও আঁতোয়ান সেমেনিওরা।

ম্যাচের শেষ দিকে সবচেয়ে সহজ সুযোগটি পায় ইংল্যান্ড। রিস জেমসের ক্রস থেকে আসা দারুণ এক বলে হেড করেন নিকো ও’রাইলি। তবে তাঁর হেডটি গোলপোস্টের ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে হ্যারি কেইনের সামনে সুবর্ণ সুযোগ এলেও খুব কাছ থেকে লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন ইংলিশ অধিনায়ক। শেষ মুহূর্তে মার্ক গেহির আরেকটি আক্রমণও রুখে দেয় ঘানা ডিফেন্স।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী বলের দখলে ইংল্যান্ড অনেক এগিয়ে থাকলেও ফুটবল যে কেবল দখলের খেলা নয়, ঘানা তা প্রমাণ করে ছেড়েছে। এই ড্রয়ে ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট পর্বের দৌড়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে ঘানা। সমান পয়েন্ট নিয়ে ইংল্যান্ডও লড়াইয়ে টিকে থাকলেও, টুখেলের দলের আক্রমণভাগের এমন ধারহীন ফুটবল ফুটবলপ্রেমীদের মনে বেশ কিছু প্রশ্ন রেখে গেল।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।