নোয়াখালীতে ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ, চক্ষু হাসপাতাল বন্ধ

রিপন মজুমদার, জেলা প্রতিনিধি, নোয়াখালিঃ
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:০৩ এএম
শেয়ার করুন:
নোয়াখালীতে ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ, চক্ষু হাসপাতাল বন্ধ

নোয়াখালীর মাইজদী শহরের একটি চক্ষু হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মো. মোসলিম (১২) নামের এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় দত্তেরহাট এলাকার ‘ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে’ এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর স্বাস্থ্য বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে।

নিহত মোসলিম লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের চরবসু গ্রামের মাহফুজুর রহমানের ছেলে। 

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আবুল হোসেন। তিনি নোয়াখালী সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট হাজী বাড়ির মৃত আবুল কালামের ছেলে। পেশায় প্যারামেডিকস আবুল হোসেন অভিযুক্ত ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাড়ির পাশে খেলাধুলার সময় অসাবধানতাবশত একটি লাঠির টুকরো মোসলিমের বাঁ চোখে আঘাত করে। এতে সে গুরুতর আহত হলে স্বজনেরা দ্রুত তাকে মাইজদীর দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে কোনো চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। কর্তব্যরত প্যারামেডিকস আবুল হোসেন নিজেই শিশুটির চোখে অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগ করেন। এর কিছুক্ষণ পরই মোসলিম ক্রমাগত বমি করতে শুরু করে এবং নিস্তেজ হয়ে পড়ে। অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে নেওয়ার পর জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

তবে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ অস্বীকার করে প্যারামেডিকস ও হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেন বলেন, “শিশুটির চোখের ওপরের ও নিচের পাতায় লোকাল অ্যানেসথেসিয়ার ড্রপ দেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিয়মে এ ধরনের ড্রপের কারণে কোনো রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে না।”

নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রাজীব আহমেদ চৌধুরী জানান, শিশুটিকে মৃতাবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনেরা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’-এ কল করে বিষয়টি জানান। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রয়েছে। শিশুটির চোখে আঘাত পাওয়ার প্রাথমিক ঘটনাটি লক্ষ্মীপুরের কমলনগর থানা এলাকার হওয়ায় সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে সমন্বয় করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, “স্বজনদের অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমি দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালটি পরিদর্শন করি। অনিয়ম ও অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিকভাবে হাসপাতালটির সার্বিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নিহতের পরিবারকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।