৪০ বছর পর নকআউটে মেক্সিকোর জয়

অনলাইন ডেস্কঃ
১ জুলাই, ২০২৬ ১০:৫৮ এএম
শেয়ার করুন:
৪০ বছর পর নকআউটে মেক্সিকোর জয়

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে একটি জয়ের জন্য মেক্সিকোকে অপেক্ষা করতে হলো দীর্ঘ ৪০ বছর। অবশেষে ঘরের মাঠে, নিজেদের দর্শকদের গগনবিদারী উল্লাসের মাঝে ঘুচল সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষা। মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে হাভিয়ের আগিরের দল।

মেক্সিকোর এই ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক জুলিয়ান কিনোনেস ও রাউল হিমেনেস। প্রথমার্ধেই দুই গোল করে ম্যাচের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় স্বাগতিকরা। 

বজ্রঝড়ের বাধা পেরিয়ে দাপুটে শুরু
ম্যাচটি শুরুর আগেই অবশ্য খানিকটা নাটকীয়তার সৃষ্টি হয়। মেক্সিকো সিটির আশপাশে তীব্র বজ্রঝড়ের কারণে ফিফার আবহাওয়া প্রোটোকল মেনে খেলা শুরু করতে প্রায় এক ঘণ্টা বিলম্ব হয়। তবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিরতি স্বাগতিকদের খেলার ছন্দে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। ম্যাচের শুরু থেকেই চেনা মাঠে আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে বসে মেক্সিকো।

কোচ হাভিয়ের আগিরে এদিন একাদশে ১৭ বছর বয়সী তরুণ মিডফিল্ডার গিলবার্তো মোরাকে রেখে এক সাহসী সিদ্ধান্ত নেন। কোচের আস্থার প্রতিদান দিয়ে শুরু থেকেই দুর্দান্ত ফুটবল খেলেন এই তরুণ তুর্কি। তার গতিশীল পাসিং আর প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টির ক্ষমতা ইকুয়েডরের রক্ষণভাগকে তটস্থ করে রাখে।

প্রথমার্ধেই মেক্সিকোর জোড়া আঘাত
খেলার ২২ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত প্রথম গোলের দেখা পায় মেক্সিকো। রবার্তো আলভারাদোর নিখুঁত পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাম প্রান্ত দিয়ে ক্ষিপ্র গতিতে বক্সে ঢোকেন জুলিয়ান কিনোনেস। অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে জোরালো শটে বল জালে জড়ান তিনি। ইকুয়েডরের গোলরক্ষক গ্যালিন্দেসের কেবল চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না।

প্রথম গোলের পর মেক্সিকোর আক্রমণের ধার আরও বেড়ে যায়। এর ঠিক ৯ মিনিট পর, অর্থাৎ ৩১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাউল হিমেনেস। নিজেদের অর্ধে প্রতিপক্ষের থেকে বল কেড়ে নিয়ে হিমেনেস ও কিনোনেসের চমৎকার বোঝাপড়ায় তৈরি হয় দৃষ্টিনন্দন এক আক্রমণ। কিনোনেসের বাড়ানো ফিরতি পাসে মেক্সিকোর অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড হিমেনেস দারুণ এক শটে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন।

ইকুয়েডরের প্রতিরোধ ও মেক্সিকোর রক্ষণভাগ
দুই গোল হজম করার পর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে ইকুয়েডর। প্রথমার্ধের শেষ দিকে জন ইয়েবোয়ার কল্যাণে কয়েকটি আক্রমণ চালালেও মেক্সিকোর গোলরক্ষক রাউল রাঙ্গেল ও রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় তা ভেস্তে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধে বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আক্রমণের ধার বাড়ানোর চেষ্টা করেন ইকুয়েডরের কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে। মোইসেস কাইসেদো, কেনদ্রি পায়েস ও কেভিন রদ্রিগেজরা মেক্সিকোর রক্ষণে ফাটল ধরার চেষ্টা করলেও সিজার মন্তেস ও ইয়োহান ভাসকেসের দুর্দান্ত ডিফেন্ডিং স্বাগতিকদের জাল অক্ষত রাখে। 

ম্যাচের ৬৭ মিনিটে কর্নার থেকে সিজার মন্তেসের এক চমৎকার হেড ইকুয়েডর গোলরক্ষক গ্যালিন্দেস এক হাতে রক্ষা না করলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। খেলার শেষ দিকে ইকুয়েডর মরিয়া চেষ্টা চালালেও গোলের দেখা পায়নি। উল্টো অতিরিক্ত সময়ে ডিফেন্ডার পিয়েরো হিনকাপিয়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ইকুয়েডরের বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়।

ঐতিহাসিক এক জয়
মেক্সিকোর ফুটবল ইতিহাসে এই জয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগে ১৯৮৬ সালের ঘরের মাঠের বিশ্বকাপেই তারা সর্বশেষ নকআউটে বুলগেরিয়াকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল। এরপর ১৯৯৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত টানা প্রতিটি আসরে নকআউটে উঠলেও প্রথম ম্যাচেই বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। এবার নতুন ৪৮ দলের পরিবর্ধিত ফরম্যাটে রাউন্ড অব ৩২-এর বাধা পেরিয়ে শেষ ষোলোয় পা রাখল তারা।

মেক্সিকো সিটির গ্যালারিজুড়ে থাকা হাজারো দর্শকের অকুণ্ঠ সমর্থন ছিল মেক্সিকোর বড় চালিকাশক্তি। জাতীয় সংগীত থেকে শুরু করে শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত ভক্তদের উন্মাদনা স্বাগতিকদের দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। 

শেষ ষোলোয় মেক্সিকোর মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড ও ডিআর কঙ্গো ম্যাচের জয়ী দল। ঘরের মাঠে ৪০ বছরের বন্ধ্যাত্ব কাটানোর পর মেক্সিকানদের মনে এখন আরও বড় স্বপ্ন বোনার পালা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।