নওগাঁয় এক মাদ্রাসা ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

আব্দুল মজিদ মল্লিক, জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁঃ
২৮ জুন, ২০২৬ ৯:৪২ পিএম
শেয়ার করুন:
নওগাঁয় এক মাদ্রাসা ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

নওগাঁয় এক মাদ্রাসা ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।মাদ্রাসা ছাত্রের নাম আব্দুল্লাহ আল নীরব হোসেন। সে স্থানীয় নামাজগড় মাদ্রাসাপাড়ায় গাউসুল আজম আলিম মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে ।

রোববার (২৮ জুন) সকালে মাদ্রাসার এতিমখানা ভবনের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত নীরব পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার রুবেল হোসেনের ছেলে।

মাদ্রাসা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এশার নামাজের পর নীরব পার্শ্ববর্তী এলাকায় তার চাচার বাসায় খাবার খেতে যায়। ফেরার পথে মাদ্রাসাপাড়ার একটি বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠানে তাকে কিছু সহপাঠীর সঙ্গে দেখা গিয়েছিল। আবাসিক হলের নিয়ম অনুযায়ী রাত ১০টার মধ্যে ভেতরে ঢোকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, নীরব আর হলে ফেরেনি। সকালে এলাকাবাসী ভবনের পাশে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন।

নওগাঁ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, “লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি এবং এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।”

মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা বেলাল হোসেন বলেন, “সকালে আমার স্ত্রী বাড়ি থেকে বের হয়ে মাদ্রাসার মূল গেটের কাছেই ওই ছাত্রের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তার চিৎকারে লোকজন ছুটে আসে। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।”

আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা জানায়, এতিমখানার নিয়মানুযায়ী রাত ১০টার পর গেট বন্ধ হয়ে যায় এবং দেরি করে ফিরলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। অনেক সময় দেরিতে ফেরা শিক্ষার্থীদের মারধরও করা হয়। সহপাঠীদের তথ্যমতে, বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচগান দেখার সময় নীরবকে শেষবার দেখা গিয়েছিল।

এ ঘটনায় দায়বদ্ধতা ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জিল্লুর রহমান এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবদুস ছাত্তার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।