সালথায় ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

জাকির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টারঃ
২২ আগস্ট, ২০২৬ ৪:৩৩ পিএম
শেয়ার করুন:
সালথায় ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

ফরিদপুরের সালথায় উপজেলা ছাত্রদলের এক শীর্ষ নেতার নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২টি বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের জুগিকান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সালথা উপজেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি রাজিব হোসেনের নেতৃত্বে মুরাটিয়া, সজনকান্দা ও জুগিকান্দা গ্রামের একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এ হামলা চালান। হামলায় বেশ কয়েকটি বসতবাড়ির পাশাপাশি একটি মুদি দোকানেও ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এছাড়া কয়েকটি বসতঘর ও খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা অনুযায়ী, হামলায় বশির মাতুব্বরের দুটি বসতঘর এবং বাবলু মাতুব্বর, আবুল খায়ের, ইদ্রিস মাতুব্বর, মিজান মাতুব্বর, আজিজুল মাতুব্বর, রওসান মাতুব্বর ও তুরাপ মাতুব্বরের একটি করে বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া মামুন মাতুব্বরের একটি ঘর ও খড়ের গাদায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।

হামলার শিকার জুগিকান্দা গ্রামের বাসিন্দা ধলেনা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে সবকিছু ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। খাটের নিচ থেকে আমার মেয়েকে টেনেহিঁচড়ে বের করা হয়। আমার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে গ্রামছাড়া, আমি একাই থাকি। এখন রাতে থাকার মতো কোনো জায়গা নেই।” তিনি আরও জানান, তাঁদের মুদি দোকান থেকে নগদ টাকা ও মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

আরেক ভুক্তভোগী রওসান মাতুব্বরের স্ত্রী সোখিনা বলেন, “পূর্ব বিরোধের জেরে আমার স্বামী মারধরের আশঙ্কায় বাড়িতে থাকেন না। শুক্রবার সন্ধ্যায় মুরাটিয়া, সজনকান্দা ও জুগিকান্দা গ্রামের লোকজন এসে আমাদের বাড়িঘরে হামলা চালায়। তারা ভাঙচুরের পাশাপাশি ঘরে আগুন দেয় এবং আমার স্বামীকে মারধর ও ছোট ছেলেকে হুমকি দেয়।”

ভুক্তভোগীদের দাবি, উপজেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি রাজিব হোসেন ছাড়াও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি হিমায়েত হোসেন, জাহিদ, রফিক ও ইবাদতসহ আরও কয়েকজন এ হামলায় সরাসরি জড়িত ছিলেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সালথা উপজেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি রাজিব হোসেন হামলার বিষয়টি ঘুরিয়ে স্বীকার করে বলেন, “ওরা গতকাল জামিন পেয়েছে। এরপর আমার এক লোক খেলা দেখতে যাওয়ার পথে রওসানের বাড়ির সামনে জাহিদ তাকে মারধর করে। পরে খবর পেয়ে গ্রামের কিছু লোক গিয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। আমি যেহেতু ওই পক্ষের নেতৃত্বে আছি, তাই স্বাভাবিকভাবেই আমার নাম আসছে।”

এ বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান জানান, “এলাকায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও বাড়িঘর ভাঙচুরের খবর পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।