নওগাঁয় সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রির ধুম, বরাদ্দ বাতিলের উদ্যোগ

আব্দুল মজিদ মল্লিক, জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁঃ
২৮ জুন, ২০২৬ ৬:২৬ পিএম
শেয়ার করুন:
নওগাঁয় সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রির ধুম,  বরাদ্দ বাতিলের উদ্যোগ

গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার মালিপুকুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে অবৈধভাবে কেনাবেচা হচ্ছে বলে বিভিন্ন সুত্র থেকে অভিযোগ উঠেছে। ৩২টি ঘরের মধ্যে অন্তত ১২টি ঘর অর্থের বিনিময়ে হাতবদল হয়েছে বলেও জানা গেছে। কোথাও একই ঘর একাধিকবার বিক্রি হয়েছে, আবার কোথাও একজনের দখলে রয়েছে একাধিক ঘর।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, উপকারভোগী নির্বাচনে অনিয়ম এবং তদারকির ঘাটতির সুযোগে আশ্রয়ণের ঘর কেনাবেচার একটি অনানুষ্ঠানিক বাজার গড়ে উঠেছে। বর্তমানে একটি ঘর ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রকল্পের বেশ কয়েকটি ঘরে বর্তমানে বসবাস করছেন এমন ব্যক্তিরা, যাদের নাম সরকারি বরাদ্দ তালিকায় নেই। বর্তমান বাসিন্দাদের কেউ কেউ স্বীকার করেছেন, তারা অর্থের বিনিময়ে ঘর কিনেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের ৫, ৬, ৭, ৯, ১০, ১৪, ১৫, ১৬, ১৮, ১৯ ও ২২ নম্বরসহ একাধিক ঘর বিভিন্ন সময়ে বিক্রি হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে একই ঘর দুই থেকে তিনবার পর্যন্ত হাতবদল হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত গৃহহীনদের বাদ দিয়ে যাদের নিজস্ব বাড়িঘর ও জমিজমা রয়েছে, তাদের অনেককে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। পরে তারা এসব ঘর বিক্রি করে অন্যত্র চলে গেছেন।

ঘর কেনাবেচায় সহায়তার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক নারীর বিরুদ্ধে। 

তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, মূল বরাদ্দপ্রাপ্তরা থাকতে না চাওয়ায় ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগে সহায়তা করেছেন মাত্র।

এদিকে, প্রকল্পের সাধারণ সম্পাদক ও নারী গ্রাম পুলিশ ছাবিনা ইয়াসমিন মীমের বিরুদ্ধেও নিজের বরাদ্দকৃত ঘর বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চাকরির কারণে ভাড়া বাসায় থাকেন এবং ঘর বিক্রির কোনো ইচ্ছা তার নেই।

প্রকল্পের সভাপতি ফরিদ আলী জানান, ৩২টি ঘরের মধ্যে প্রায় ১২টি ঘর অর্থের বিনিময়ে হাতবদল হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল হাসান বলেন, তদন্তে ১২টি ঘর অবৈধভাবে বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব ঘরের বরাদ্দ বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে। জেলা কৃষি খাসজমি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় বরাদ্দ বাতিল করা হবে এবং দলিল বাতিলের জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।