বাংলাদেশ বিশ্বস্ত বন্ধু চীনের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্কঃ
২৫ জুন, ২০২৬ ১০:০৯ এএম
শেয়ার করুন:
বাংলাদেশ বিশ্বস্ত বন্ধু চীনের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশকে ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত ও ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত উল্লেখ করে চীনের উদ্যোক্তাদের এ দেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চীনকে একটি ‘বিশ্বস্ত বন্ধু’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি দ্বিপাক্ষিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে চীনা বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে সে দেশে দ্রুতই বাংলাদেশের প্রথম ‘বিনিয়োগ কার্যালয়’ খোলার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে চীনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’ শীর্ষক সম্মেলনে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিআইটি)-এর চেয়ারম্যান রেন হংবিনসহ দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আমাদের এই সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা, শ্রদ্ধা এবং বাস্তবমুখী সহযোগিতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। সময়ের সাথে সাথে এই অংশীদারত্ব কূটনীতি থেকে উন্নয়নে, উন্নয়ন থেকে বাণিজ্যে এবং এখন গভীর শিল্প সহযোগিতায় রূপান্তরিত হয়েছে।” তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বর্তমানে এক বিশাল অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

চীনা কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে তাদের ভ্যালু চেইন সম্প্রসারণের আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “চীন বর্তমানে বৈশ্বিক ভ্যালু চেইনে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। তারা উন্নত উৎপাদন, টেকসই অবকাঠামো এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি খাতে নেতৃত্ব দিচ্ছে। চীনা কোম্পানিগুলো যখন তাদের উৎপাদন ব্যবস্থার জন্য নতুন ও প্রতিযোগিতামূলক বাজারের সন্ধান করছে, তখন বাংলাদেশ তাদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ও লাভজনক গন্তব্য হতে পারে।”

বিনিয়োগের পরিবেশ সহজ করতে সরকারের নেওয়া প্রশাসনিক সংস্কারের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক পুঁজি সংক্রান্ত কাজের প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে একটি কঠোর ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে স্বচ্ছতা, ধারাবাহিকতা ও কাজের গতি বাড়ানো হচ্ছে এবং সরকারি সেবাগুলোকে ডিজিটাইজ করা হচ্ছে। এছাড়া নতুন ব্যবসায়িক লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন করা হচ্ছে, যার ফলে নতুন প্রতিষ্ঠানগুলো ১৫ দিনেরও কম সময়ে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করতে পারবে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ ও মূলধন ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষার নিশ্চয়তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-তে একটি ডেডিকেটেড ডেস্ক ও বিশেষায়িত ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। একই সাথে আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল এবং মংলায় দ্বিতীয় একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে।

বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধ, স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং উন্নত বস্ত্রশিল্পের মতো অগ্রাধিকার খাতে বিশেষ নীতিগত সুবিধা ও প্রণোদনা দেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের পরবর্তী 'এশীয় অর্থনৈতিক বিস্ময়' রচনার অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।