এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
শতকোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে পুলিশের নতুন ইউনিফর্ম চালুর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বাহিনীর ভেতরে-বাইরে এখন প্রশ্ন উঠেছে—নতুন পোশাক কি আদৌ কার্যকর? নাকি এটি রাষ্ট্রের অর্থের অপচয়? মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের দাবি, এই পোশাক দেশের আবহাওয়া ও বাহিনীর ঐতিহ্যের সঙ্গে মানানসই নয়।
পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আনিসুজ্জামান জানান, মাঠপর্যায়ে নতুন পোশাক নিয়ে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। বাহিনীর সদস্যদের মতে, এই পোশাকের মান নিম্নমানের এবং তা বাংলাদেশের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার জন্য মোটেও উপযোগী নয়। এছাড়া নতুন এই ডিজাইনের সঙ্গে বেসরকারি সিকিউরিটি গার্ডের পোশাকের মিল থাকায়, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাও ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে তারা মনে করছেন।
সম্প্রতি প্রায় দুই লাখ পুলিশ সদস্যের ওপর চালানো এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৯৬ শতাংশ সদস্যই নতুন পোশাকের বিপক্ষে মত দিয়েছেন।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর নির্মম দমন-পীড়নের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরপর পুলিশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার ও সংস্কারের অংশ হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকার তড়িঘড়ি করে পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাহিনীর সদস্যদের মতামত নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই পরিবর্তন পুলিশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে ক্ষুণ্ন করেছে।
নতুন পোশাকের পেছনে রাষ্ট্রের খরচ হয়েছে শতকোটি টাকার বেশি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ ও অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক তৌহিদুল হক এ বিষয়ে বলেন, “পোশাক পরিবর্তনে বিপুল অর্থ ব্যয় না করে পুলিশের আধুনিকায়ন ও লজিস্টিক সহায়তা বাড়ানো যেত। এখন যদি পুনরায় পুরোনো ইউনিফর্মে ফিরে যাওয়া হয়, তবে সেটি হবে রাষ্ট্রের অর্থের চরম অপচয়, যা বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে কাম্য নয়।”
পোশাক পরিবর্তনের চেয়ে পুলিশের মানসিকতার পরিবর্তনের দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অনেকের মতে, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরও পুলিশের কার্যক্রমে বড় কোনো গুণগত পরিবর্তন চোখে পড়েনি। তাদের ভাষ্যমতে, পোশাকের রং বদলানো কেবল একটি লোক দেখানো উদ্যোগ মাত্র; আসল কাজ হলো জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলা।
পুলিশের মতো র্যাব ও আনসার বাহিনীর পোশাক পরিবর্তনের আলোচনা উঠলেও তা শেষ পর্যন্ত আর বাস্তবায়িত হয়নি। র্যাব সদস্যরা এখনো তাদের পুরোনো কালো পোশাকেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
এখন দেখার বিষয়, বিপুল অর্থ ব্যয় করে আনা এই নতুন পোশাক বহাল থাকে, নাকি সদস্যদের দাবির মুখে আবারও পুরোনো ঐতিহ্যে ফিরে যায় পুলিশ।
পিরোজপুর | ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
পিরোজপুর | ২৬ এপ্রিল, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
রাজধানী | ৮ জুন, ২০২৬
কুষ্টিয়া | ৮ জুন, ২০২৬
পিরোজপুর | ৮ জুন, ২০২৬
খাগড়াছড়ি | ৮ জুন, ২০২৬
রাঙ্গামাটি | ৮ জুন, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।