ফরিদপুরে বেপরোয়া ট্রাকের গতিরোধ, গণপিটুনিতে ড্রাইভার নিহত, আহত ২
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের বিলনালিয়া নতুনহাটখোলা এলাকায় বেপরোয়া গতিতে ট্রাক চালানোর অভিযোগে স্থানীয়দের হাতে ড্রাইভারসহ তিনজন গণপিটুনির শিকার হয়েছেন। শুক্রবার (১ মে) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সালথা উপজেলার রসুলপুর এলাকা থেকে একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো ট-১২৭৩৩২) অত্যন্ত দ্রুতগতিতে গ্রামের সরু সড়ক দিয়ে আসছিল। ট্রাকটির অস্বাভাবিক গতি দেখে এলাকাবাসী সেটির গতিরোধ করে। এ সময় উত্তেজিত জনতা ট্রাকের ড্রাইভার ও হেলপারসহ তিনজনকে গণপিটুনি দেয়, এতে তারা গুরুতর আহত হন।
একই সঙ্গে ক্ষুব্ধ জনতা ট্রাকটিতে ভাঙচুর চালায়। পরে খবর পেয়ে নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান, নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ এবং তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্থানীয়দের দাবি, ট্রাকটি রসুলপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক পথচারীকে চাপা দিয়ে পালিয়ে আসছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় ২০ জনের মতো পথচারী আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে বিলনালিয়া নতুনহাটখোলা এলাকার মুন্সী স্টোরে সজোরে ধাক্কা দেয় ট্রাকটি।
তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এর আগেই স্থানীয়রা ড্রাইভারসহ তিনজনকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে পুলিশ এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
নগরকান্দা থানার ওসি রাসুল সামদানি আজাদ বলেন, “খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করি। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ট্রাকটি রসুলপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে আসছিল।” তিনি আরও জানান, আহতের সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর ট্রাকের ড্রাইভার হান্নান (৪৫) মারা গেছেন। তার বাড়ি বোয়ালমারী উপজেলায় বলে জানা গেছে। আহত অন্য দুইজন হলেন হেলপার নাঈম (২২), বাড়ি সালথা উপজেলার সোনাখোলা এবং আল-আমিন (২৫), বাড়ি সালথা উপজেলার কাগদী। তারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
What's Your Reaction?
শফিকুল ইসলাম জনি, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ