গণপিটুনিতে নিহত অন্তরের মরদেহ নিতে স্বজনদের অস্বীকৃতি

অনলাইন ডেস্কঃ
২৭ জুন, ২০২৬ ১২:৩৫ পিএম
শেয়ার করুন:
গণপিটুনিতে নিহত অন্তরের মরদেহ নিতে স্বজনদের অস্বীকৃতি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গণপিটুনিতে নিহত ঘাতক অন্তর মজুমদারের (২৮) লাশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তার নিজ পরিবার। পরে পুলিশের বিশেষ তৎপরতা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মধ্যস্থতায় তার এক দূর সম্পর্কের চাচাতো ভাইয়ের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। 

আজ শনিবার (২৭ জুন) সকালে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াকুব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত অন্তর নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর থানার চরভাটা এলাকার কার্তিক মজুমদারের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পর গণপিটুনিতে অন্তরের মৃত্যুর পর লাশ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানার মাধ্যমে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তবে এই জঘন্য ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর শুনে ক্ষুব্ধ ও লজ্জিত পরিবারটি প্রথমে লাশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে সুবর্ণচরের স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সহায়তায় অন্তরের দূর সম্পর্কের চাচাতো ভাই টিটু মজুমদারকে লক্ষ্মীপুরে ডেকে আনা হয়। লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল শুক্রবার বিকেলে তার কাছেই মরদেহটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

১০০ শয্যাবিশিষ্ট লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অরূপ পাল জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিহত অন্তরের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মরদেহটি পুলিশের কাছে বুঝিয়ে দেয়।

এদিকে গণপিটুনিতে অন্তর মজুমদারের মৃত্যুর ঘটনায় রায়পুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে এই মামলাটি দায়ের করেন।

নেপথ্যের নির্মম হত্যাকাণ্ড 
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীর পাড় এলাকার একটি পাঁচতলা ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে ঢুকে শাহিনুর বেগম (৩৮) এবং তার তিন মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) ও ফাতেমা আক্তার শিফাকে (৯) এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন অন্তর মজুমদার। এই নৃশংস ঘটনার পরপরই স্থানীয় উত্তেজিত জনতা ঘাতক অন্তরকে হাতেনাতে ধরে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। 

এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। মা ও তিন বোনকে হারিয়ে একমাত্র জীবিত সন্তান সিফাত কান্নায় ভেঙে পড়েন। জানাজার নামাজে আহাজারি করে সিফাত বলেন, "এখন আল্লাহ ছাড়া আমার আর কেউ নেই।"

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।