ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছে চীনা সেনাবাহিনী, দখলে নিয়েছে বিস্তৃত এলাকা

অনলাইন ডেস্কঃ
৩০ জুন, ২০২৬ ৫:২০ পিএম
শেয়ার করুন:
ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছে চীনা সেনাবাহিনী, দখলে নিয়েছে বিস্তৃত এলাকা

ভারতের অরুণাচল প্রদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকায় চীনা সেনাবাহিনীর (পিএলএ) অনুপ্রবেশ এবং ভারতীয় ভূখণ্ডের একটি বড় অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সীমান্ত সংলগ্ন আপার সুবানসিরি জেলায় চীনা সামরিক বাহিনীর এই আগ্রাসী তৎপরতায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্থানীয় ‘নহ্’ (Nah) উপজাতি সম্প্রদায়। তাদের দাবি, গত ছয় বছরে পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) তাদের পূর্বপুরুষদের চারণভূমি, শিকার অঞ্চল এবং কৃষিজমির একটি বিশাল অংশ নিজেদের দখলে নিয়ে নিয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং আনন্দবাজারের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, সম্প্রতি আপার সুবানসিরির ডেপুটি কমিশনারের কাছে এই বিষয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছে স্থানীয় সংগঠন ‘নহ্ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’। সংগঠনের সভাপতি কেরু চাদের এই স্মারকলিপিতে চীনা আগ্রাসনের এক উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেন।

স্মারকলিপিতে কেরু চাদের উল্লেখ করেন, "যেসব জমিতে কয়েক বছর আগেও আমরা অবাধে যাতায়াত করতাম, বনের ফলমূল সংগ্রহ করতাম এবং আমাদের গবাদি পশু চরাতাতাম—আমাদের পূর্বপুরুষদের সেই চারণভূমি ও শিকার অঞ্চলগুলো এখন চীনা সেনাদের দখলে চলে গেছে। আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের মাতৃভূমি হারাচ্ছি।"

নহ্ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল পর্যন্ত যেসব এলাকা স্থানীয়দের প্রথাগত নিয়ন্ত্রণে ছিল, সেগুলো এখন চীনা সেনারা নিজেদের কবজায় নিয়েছে। গত এক থেকে দেড় দশকে তাকসিং সীমান্ত এলাকায় চীন তাদের তৎপরতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছে।

সংগঠনটির দাবি, আপার সুবানসিরির তাকসিং রাজস্ব সার্কেলের অধীনে থাকা অন্তত পাঁচটি কৌশলগত স্থানে বেইজিং অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। অনুপ্রবেশের শিকার প্রধান এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে—আসাফিলা অঞ্চলের ওইং, চুজারতা অঞ্চলের পানিয়ার, মারনাফে অঞ্চলের মারপান, পোত্রাং লেক এবং তিনদিংতাং। স্থানীয়দের দাবি, এই এলাকাগুলো তাকসিং সদরের অত্যন্ত কাছাকাছি এবং এর মধ্যে কয়েকটি স্থান তাদের পবিত্র তীর্থভূমি হিসেবে গণ্য হয়।

স্মারকলিপিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, ভারতীয় সীমানার ভেতরে ঢুকে চীনা বাহিনী কেবল টহল দিচ্ছে না, বরং সেখানে স্থায়ী সড়ক ও সামরিক ক্যাম্পও গড়ে তুলেছে।

সীমান্তে নিয়োজিত ভারতীয় সেনাবাহিনীর ওপর আস্থা প্রকাশ করে নহ্ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি বলেন, "আমরা আমাদের সেনাবাহিনীর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখি। তারা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে চীনা বাহিনীর আগ্রাসনের গতি ও উদ্দেশ্য এতটাই ভয়াবহ যে, কেবল বর্তমান প্রতিরোধ ব্যবস্থা দিয়ে তা ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না।"

বিষয়টিকে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে দেখছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। নাচোর বিধায়ক নাকাপ নালো এ প্রসঙ্গে বলেন, "যেহেতু এটি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়, তাই অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সরকারি তদন্ত ও মাঠপর্যায়ে যাচাইকরণ প্রয়োজন।"

তবে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে আপার সুবানসিরির ডেপুটি কমিশনার গাম্বো তাসো বা অরুণাচল প্রদেশ সরকারের কোনো শীর্ষ কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।