বাঙ্কারে লুকিয়ে আছেন মোজতবা খামেনি, বার্তা আদান-প্রদান করেন যেভাবে
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বর্তমানে এক অজ্ঞাত স্থানে কার্যত আত্মগোপনে রয়েছেন। ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলা থেকে বাঁচতে তিনি এতটাই কঠোর নিরাপত্তা অবলম্বন করছেন যে, বাইরের বিশ্বের সঙ্গে তার সরাসরি কোনো যোগাযোগ নেই। এমনকি অত্যন্ত গোপনীয় এক ‘কুরিয়ার নেটওয়ার্কের’ মাধ্যমে তিনি বর্তমানে তার বার্তা আদান-প্রদান করছেন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে গত রোববার (২৪ মে) সিবিএস নিউজ এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।
যোগাযোগের জটিলতায় থমকে আছে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোজতবা খামেনির সঙ্গে যোগাযোগের পথ অত্যন্ত সীমিত ও জটিল হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য চুক্তির আলোচনা বা অতীতের সমঝোতাগুলোর বিস্তারিত তথ্যে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিচ্ছে। এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করার অনুমতি পাওয়া ইরানি কর্মকর্তারাও নিজেদের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন।
দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন কোনো প্রস্তাব বা চুক্তির খসড়া পাঠায়, তখন তা বিশেষ কুরিয়ারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নেতার কাছে পৌঁছাতে এবং সেখান থেকে সিদ্ধান্ত ফিরে আসতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। ফলে দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেন এই আত্মগোপন?
সূত্রের খবর অনুযায়ী, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় পরিচালিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে আহত হওয়ার পর থেকেই মোজতবা খামেনি জনসমক্ষ থেকে আড়ালে চলে যান। তার বাবা ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে যেভাবে লক্ষ্যবস্তু করে হত্যা করা হয়েছিল (যিনি চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন), একই ধরনের হামলা এড়াতেই তিনি এই ভূগর্ভস্থ জীবন বেছে নিয়েছেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মোজতবাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি বা তার কোনো বক্তব্যও শোনা যায়নি।
অন্ধকারে পুরো ইরানি নেতৃত্ব
কেবল মোজতবা খামেনিই নন, মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের কারণে ইরানের অধিকাংশ উচ্চপর্যায়ের নেতা এখন আত্মগোপনে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানের অনেক নেতাই এখন দিনের আলো দেখেন না। তারা সপ্তাহের পর সপ্তাহ অত্যন্ত সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে অবস্থান করছেন এবং নিজেদের মধ্যেও যোগাযোগ এড়িয়ে চলছেন।
একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বিদ্রূপ করে বলেন, "ইরানি নেতাদের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করার এই প্রচেষ্টা অনেকটা কোনো অদ্ভুত সিটকম বা নাটকের মতো। তারা পুরোপুরি হতাশ ও বিভ্রান্ত।"
চুক্তির সম্ভাবনা ও বর্তমান পরিস্থিতি
এত সব প্রতিকূলতার মধ্যেও হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমান খসড়া চুক্তির মূল কাঠামোর সঙ্গে মোজতবা খামেনি নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছেন। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তার বার্তার অপেক্ষা করা হচ্ছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যালে' লিখেছেন, তিনি আশা করছেন আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে।
বর্তমানে ইরানের আলোচনারত কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ নেতার বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট সীমার মধ্যেই কাজ করছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার আগ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি এখন মোজতবা খামেনির বাঙ্কারের সেই গোপন কুরিয়ার বার্তার ওপরই নির্ভর করছে।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ