স্পেনের কাছে হেরে বিদায় উরুগুয়ের

অনলাইন ডেস্কঃ
২৭ জুন, ২০২৬ ১০:৫০ এএম
শেয়ার করুন:
স্পেনের কাছে হেরে বিদায় উরুগুয়ের

একটিমাত্র ভুলেই শেষ পর্যন্ত থমকে গেল দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিশ্বকাপ যাত্রা। আলেক্স বায়েনার নেওয়া অপেক্ষাকৃত সহজ একটি শট অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরার হাত ফসকে জালে জড়ায়। আর এই একমাত্র গোলেই উরুগুয়েকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ ‘এইচ’-এর শীর্ষস্থান ধরে রেখে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে স্পেন। অন্যদিকে, হার দিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো উরুগুয়েকে।

ম্যাচটি স্পেন জিতলেও তাদের পারফরম্যান্সে পুরোপুরি স্বস্তির ছাপ ছিল না। বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখলেও খেলায় গতি, ছন্দ এবং ধারালো আক্রমণের অভাব স্পষ্ট ছিল। তবে বায়েনার গোল এবং প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের মারাত্মক ভুল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলের গ্রুপসেরা হওয়ার পথ সহজ করে দেয়। 

মার্সেলো বিয়েলসার উরুগুয়ের জন্য ম্যাচটি ছিল বাঁচা-মরার লড়াই। শেষ ৩২-এর আশা টিকিয়ে রাখতে হলে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না তাদের সামনে। ম্যাচের শুরু থেকেই সেই মরিয়া ভাব দেখা যায় উরুগুয়ের খেলায়। ডারউইন নুনিয়েজের আক্রমণাত্মক মনোভাব এবং ম্যাক্সি আরাউহো ও আগুস্তিন কানোবিওর গতিশীল ফুটবল স্পেনের রক্ষণভাগকে শুরুতেই বেশ চাপে ফেলে দেয়। 

স্পেন ধীরে ধীরে চাপ সামলে উঠলেও মাঝমাঠে রদ্রি কিংবা পেদ্রিদের চিরাচরিত প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি। উইঙ্গার লামিনে ইয়ামালও ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। শারীরিক লড়াইয়ের বিষয়টি মাথায় রেখে স্প্যানিশ কোচ দানি ওলমোকে বেঞ্চে রেখে মার্কোস ইয়োরেন্তে ও মিকেল মেরিনোকে শুরুর একাদশে সুযোগ দেন। 

ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়া মুহূর্তটি আসে প্রথমার্ধের শেষ দিকে। ৪২ মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর বল পেয়ে নিচু শট নেন আলেক্স বায়েনা। শটটি খুব বেশি জোরালো বা কঠিন কোণ থেকে নেওয়া ছিল না। কিন্তু অভিজ্ঞ মুসলেরা বলটি গ্রিপ করতে ব্যর্থ হন। তাঁর হাত ফসকে বল গোললাইন অতিক্রম করলে স্তব্ধ হয়ে যায় উরুগুয়ে শিবির। 

এই গোলের সময় মাঠে কিছুটা বিতর্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তখন উরুগুয়ের ম্যানুয়েল উগার্তে ও স্পেনের ইয়ামাল দুজনেই চোট পেয়ে মাঠে পড়ে ছিলেন। উরুগুয়ের ফুটবলাররা গোল বাতিলের দাবি জানালেও রেফারি সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। এর কিছুক্ষণ পরই চোটের কারণে উগার্তেকে মাঠ ছাড়তে হয়, যা উরুগুয়ের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। 

বিরতির পর মুসলেরাকে তুলে নিয়ে সের্হিও রোচেতকে গোলপোস্টের নিচে দাঁড় করায় উরুগুয়ে। দ্বিতীয়ার্ধে তারা সমতায় ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও সময়ের সাথে সাথে সেই চেষ্টা অস্থিরতায় রূপ নেয়। মাঠে ফাউল ও উত্তেজনার মাত্রা বাড়তে থাকে। অন্যদিকে স্পেনও ম্যাচ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেনি। দানি ওলমো বদলি হিসেবে নামার পর স্পেনের আক্রমণে কিছুটা গতি এলেও কাঙ্ক্ষিত দ্বিতীয় গোলটি মেলেনি। ৮৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের একটি শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।

ম্যাচের যোগ করা সময়ে উরুগুয়ের হতাশা আরও বাড়ে। পাউ কুবারসিকে মারাত্মক ফাউল করার অপরাধে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আগুস্তিন কানোবিও। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর উরুগুয়ের ঘুরে দাঁড়ানোর সব পথ বন্ধ হয়ে যায়। শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই নিশ্চিত হয় তাদের বিদায়।

গ্রুপ ‘এইচ’ থেকে সর্বোচ্চ ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে পা রাখল স্পেন। তিন ম্যাচে তিন ড্রয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে ইতিহাস গড়ে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে কেপ ভার্দে। আর সমান ২ পয়েন্ট নিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল উরুগুয়ে ও সৌদি আরব।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।