গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে ১৩০০ উন্নয়ন প্রকল্প’

অনলাইন ডেস্কঃ
২৫ জুন, ২০২৬ ৪:৫৬ পিএম
শেয়ার করুন:
গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে ১৩০০ উন্নয়ন প্রকল্প’

বিগত সরকারের আমলে নেওয়া প্রায় ১ হাজার ৩০০টি উন্নয়ন প্রকল্প বর্তমান সরকারের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ এবং এক প্রকার ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘ডিবেটিং বাজেট অ্যান্ড বিওন্ড’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

সেমিনারে অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমরা দায়িত্বে এসে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি উন্নয়ন প্রকল্প পেয়েছি। এগুলো আমাদের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রকল্পগুলো এমন এক অবস্থায় রয়েছে যে, সরকার না পারছে গিলতে, না পারছে ফেলতে। এগুলোর অনেকগুলোর কার্যকারিতা এবং বাস্তবতা নিয়েই বড় ধরনের প্রশ্ন রয়েছে।” 

তিনি আরও জানান, সরকারের পক্ষ থেকে এখন এই প্রকল্পগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ডিরেগুলেশনের (নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ) মাধ্যমে সব প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

সৃজনশীল অর্থনীতিতে বিশেষ জোর
সেমিনারে দেশের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প ও সৃজনশীল অর্থনীতির অপার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলের মৃৎশিল্প, শীতলপাটি ও অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প খাতের কারিগরদের আয় বাড়াতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এসব পণ্যকে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজারে আরও আকর্ষণীয় এবং বাজারযোগ্য করে তুলতে পারলে কারিগরদের আয় কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব। 

একটি উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “যে পণ্যটি বর্তমানে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সেটিকে মানসম্মত ও বাজারোপযোগী করে যদি ২ হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়, তবে কারিগরদের আয় সরাসরি বাড়বে। মানুষের আয় বাড়লে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং সামগ্রিকভাবে জিডিপিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”

তিনি আরও জানান, লোকসংগীত, চলচ্চিত্র ও ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে অর্থনীতির মূল ধারার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বিনোদন খাতকে আয়ের একটি অন্যতম বড় উৎস হিসেবে গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “গান, চলচ্চিত্র, সংস্কৃতি—সবকিছুকেই আমরা মনিটাইজ করতে চাই। বিনোদনও অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হতে পারে।” 

পাশাপাশি দেশের ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলো সংস্কার করে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যে এবারের বাজেটে সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আর্থিক খাতে পেশাদারত্ব ও স্বচ্ছতা
আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক বিবেচনায় কোনো নিয়োগ দেওয়া হয়নি দাবি করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে মাত্র একজন ছাড়া আর কাউকেই আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না।” এর মাধ্যমে আর্থিক খাতে শতভাগ পেশাদারত্ব ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কৃষি খাতকে বর্তমান সরকারের অন্যতম সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়নে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।