ডাকসু নির্বাচনে প্রচারণার শেষ দিনে মিসবাহর 'চমক', তকির জন্য পাকিস্তান থেকে ভিডিও বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ৪:০৫ পিএম
শেয়ার করুন:
ডাকসু নির্বাচনে প্রচারণার শেষ দিনে মিসবাহর 'চমক', তকির জন্য পাকিস্তান থেকে ভিডিও বার্তা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচনের মাঠ জমে উঠেছে শেষ মুহূর্তের উত্তেজনায়। প্রচারণার শেষ দিন, ৭ সেপ্টেম্বর, এক অভাবনীয় চমক নিয়ে হাজির হলেন ক্রীড়া সম্পাদক পদপ্রার্থী মুহাইমেনুল ইসলাম তকি। সুদূর পাকিস্তান থেকে এক ভিডিও বার্তায় তকির জন্য শুভকামনা পাঠিয়েছেন দেশটির ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক!

এবারের ডাকসু নির্বাচনে ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদ’ প্যানেল থেকে ক্রীড়া সম্পাদক পদে লড়ছেন তকি। প্রচারণার শেষ দিনে মিসবাহর এই বার্তা ক্যাম্পাসে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

ভিডিও বার্তায় মিসবাহ বলেন, "আসসালামু আলাইকুম তকি ভাই, আশা করি আপনি ভালো আছেন। আপনার জন্য আমার শুভকামনা থাকবে। আপনি একজন ভালো ক্রিকেটার এবং ভালো মানুষ। আমার বিশ্বাস, ৯ সেপ্টেম্বর আপনি ভালো করবেন। সবাই আপনার পাশে আছে। আমার পক্ষ থেকে অনেক দোয়া রইল। ইনশাআল্লাহ আপনি সফল হবেন।"

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একজন ক্রিকেটারের কাছ থেকে এমন বার্তা পেয়ে উচ্ছ্বসিত তকির সমর্থকরা।

তবে এই ঘটনা নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ কিছুদিন আগেই তকি নিজে অন্য এক প্রার্থীর পক্ষে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সমর্থন জানানোর সমালোচনা করেছিলেন। ক্রীড়া সম্পাদক পদপ্রার্থী জহিন হোসেন জামিকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার তাওহীদ হৃদয় এবং তানজিম হাসান সাকিব শুভেচ্ছাবার্তা পাঠালে তকি এর বিরোধিতা করেন।

সে সময় তিনি বলেছিলেন, "জাতীয় দলের দুই ক্রিকেটার সরাসরি একটি নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে বার্তা দিয়েছেন। একজন খেলোয়াড় হিসেবে তাদের নিরপেক্ষ থাকা উচিত ছিল। ব্যক্তিগত পছন্দ থাকা স্বাভাবিক, তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এমন প্রকাশ্য সমর্থন দেওয়া অনুচিত।"

তার সেই বক্তব্যের পর এবার নিজের প্রচারণায় ভিনদেশি তারকাকে যুক্ত করায় অনেকেই বিষয়টিকে ‘রাজনৈতিক কৌশল’ হিসেবে দেখছেন।

তকির ক্রীড়াঙ্গনে পদচারণাও কম নয়। তিনি ঢাকা লিগে খেলার পাশাপাশি জাতীয় স্পিন ক্যাম্পেও অংশ নিয়েছেন। এবারের নির্বাচনে ক্রীড়া সম্পাদক পদের জন্য তিনিসহ মোট ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে মোট ৪৭১ জন প্রার্থী লড়ছেন, যার মধ্যে ৪০৯ জন পুরুষ এবং ৬২ জন নারী। মোট ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রধান রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনগুলোর পাশাপাশি একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীও মাঠে নেমেছেন।

প্রচারণার এই শেষ মুহূর্তের চমক নির্বাচনের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে, তা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। তবে মিসবাহর এই বার্তা যে তকিকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।