নওগাঁয় টয়লেট ট্যাংকি থেকে উদ্ধার হওয়া নারীর পরিচয় শনাক্ত, ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ
নওগাঁ সদর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে একটি টয়লেটের সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার হওয়া নারীর পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। নিহত ওই নারীর নাম মিতু পারভিন। তিনি নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার শরিফপুর গ্রামের মিরাজুল ইসলামের মেয়ে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মনজের হোসেন নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার দুপুরে ভবানীপুর গ্রামে একটি টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকে এক নারীর মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। বিষয়টি থানায় জানানো হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। পরবর্তীতে তদন্তের মাধ্যমে পুলিশ নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করে।
পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মিতুর ব্যক্তিগত জীবন ছিল বেশ ঘটনাবহুল। তাঁর প্রথম বিয়ে হয় নওগাঁর শিকারপুর গ্রামের সাকিব হোসেনের সঙ্গে। বিয়ের পরপরই স্বামী সৌদি আরবে চলে যান। ওই সংসারে তাদের সাত বছরের একটি সন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে ২০২৪ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে।
এরপর শরিফপুর গ্রামের শুভ নামের এক যুবকের সঙ্গে মিতুর দ্বিতীয় বিয়ে হয়, তবে মাত্র এক বছরের মাথায় সেই সংসারও ভেঙে যায়। সর্বশেষ গত বছর তিলকপুর গ্রামের রিপন নামের এক যুবকের সঙ্গে মিতুর তৃতীয় বিয়ে হয়। স্বামী রিপন গত চার মাস আগে ঢাকায় চলে যান। এরপর গত ডিসেম্বর মাস থেকে মিতু নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাস টার্মিনাল এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে একাই বসবাস করছিলেন।
নিহতের বাবা মিরাজুল ইসলাম জানান, তিন দিন আগে মেয়ের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়েছিল। এরপর থেকে মিতুর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। মেয়ের নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে নওগাঁ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিয়ামুল হক জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তৎপর রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মনজের হোসেন নামের একজনকে আটক করে থানা হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনার মূল হোতাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
What's Your Reaction?
আব্দুল মজিদ মল্লিক, জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁঃ