ফরিদপুরে দুই গ্রামের মধ্যে দেড় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ, নিহত ১

অনলাইন ডেস্কঃ
১ জুলাই, ২০২৬ ১১:০৮ এএম
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরে দুই গ্রামের মধ্যে দেড় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ, নিহত ১

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ভয়াবহ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে সুমন (২০) নামে এক তরুণ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সংঘর্ষের জেরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। 

গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত আটটার দিকে উপজেলার হাসামদিয়া ও সদরদি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। নিহত সুমন ভাঙ্গা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাপুরিয়া সদরদি এলাকার মিলন বাবুর্চির ছেলে।

তুচ্ছ ঘটনা থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত  
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে হাসামদিয়া ও সদরদি গ্রামের কয়েকজন কিশোরের মধ্যে সামান্য কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার জের ধরে সন্ধ্যার পর উভয় পক্ষের বাসিন্দারা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। 

গুলিবিদ্ধ হয়ে তরুণের মৃত্যু  
সংঘর্ষ চলাকালে অন্ধকারের মধ্যে ছোড়া একটি বুলেটের আঘাতে সুমন নামের ওই তরুণ গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু পথেই তার মৃত্যু হয় বলে দাবি করা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সুমনের মৃত্যুর খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। তবে নির্ভরযোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক বা চিকিৎসকের সূত্র থেকে এখনও মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

মহাসড়ক অবরোধ ও তীব্র যানজট  
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর উত্তেজিত গ্রামবাসী ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে অবস্থান নেন। এর ফলে রাত আটটা থেকে সাড়ে নয়টা পর্যন্ত প্রায় দেড় ঘণ্টা এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। এতে সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে রাত সাড়ে নয়টার দিকে পুনরায় যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

পুলিশের অবস্থান ও বর্তমান পরিস্থিতি  
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মো. রেজওয়ান দীপু জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সদরদি ও হাসামদিয়া গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এই ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রাত সাড়ে নয়টার দিকে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। নতুন করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা উত্তেজনা এড়াতে বর্তমানে তিনি নিজে ভারী পুলিশ ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন। এলাকায় এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।