ক্রিকেটারদের ৮ লাগেজ উদ্ধার, মেলেনি ৩ লাখ টাকা

অনলাইন ডেস্কঃ
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ৩:৫৯ পিএম
শেয়ার করুন:
ক্রিকেটারদের ৮ লাগেজ উদ্ধার, মেলেনি ৩ লাখ টাকা

জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) ম্যাচ খেলে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে ফেরার পথে কাভার্ড ভ্যান থেকে চুরি হওয়া ক্রিকেটারদের আটটি লাগেজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যাগে খোয়া যাওয়া পাসপোর্ট, আইফোনসহ অধিকাংশ মূল্যবান সামগ্রী পাওয়া গেলেও ক্রিকেটার এস এম মেহেরব হাসানের নগদ তিন লাখ টাকার সন্ধান এখনো মেলেনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দিবাগত রাতে রাজশাহী জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে খোয়া যাওয়া লাগেজগুলো উদ্ধার এবং পাঁচজনকে আটক করে।

রাজশাহীর পুলিশ সুপার মামুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটক ব্যক্তিরা পেশাদার চোরচক্রের সদস্য। তাদের বাড়ি রাজশাহীর পুঠিয়া ও চারঘাট উপজেলায়। চলন্ত কাভার্ড ভ্যানের তালা বা দরজা খুলে মালামাল চুরির বিশেষ কৌশল তাদের জানা রয়েছে। সেই কৌশলেই তারা ক্রিকেটারদের লাগেজগুলো সরিয়ে নিয়েছিল।

**ক্রিকেটারদের পোশাকেই ধরা পড়ল চোরেরা**  
রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মোজাদ্দেদ জামানী সুমন ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে আটক ব্যক্তিদের শনাক্ত করার তথ্য জানান। তিনি বলেন, “ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, আটক ব্যক্তিদের কেউ কেউ ক্রিকেটারদের চুরি যাওয়া পোশাক পরে আছেন এবং তাঁদের লাগেজ থেকে নেওয়া দামি সুগন্ধি ব্যবহার করছেন।” তিনি আরও জানান, খোয়া যাওয়া মালামালের সিংহভাগ পাওয়া গেলেও ক্রিকেটার মেহেরবের ব্যাগে থাকা নগদ তিন লাখ টাকা পাওয়া যায়নি। সেটি উদ্ধারে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

**যেভাবে ঘটেছিল ঘটনা**  
জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় রাউন্ড শেষে ক্রিকেটাররা আকাশপথে ঢাকা থেকে রাজশাহী ফেরেন। ক্রিকেটারদের ৫৪টি লাগেজ পরিবহনের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে একটি কাভার্ড ভ্যান ভাড়া করা হয়েছিল। বুধবার সকালে রাজশাহীর একটি হোটেলে মালামাল খালাসের সময় দেখা যায়, আটটি লাগেজ উধাও। 

এর মধ্যে ক্রিকেটার এস এম মেহেরব হাসানের লাগেজে ছিল একটি আইফোন ১৫ প্রো-ম্যাক্স, পাসপোর্ট, ৩০০ মার্কিন ডলার এবং নগদ তিন লাখ টাকা। এছাড়া অন্যান্য ক্রিকেটারদের দামি পোশাক, ব্যক্তিগত মালামাল ও ম্যাচ সামগ্রী খোয়া যায়।

এ ঘটনায় মেহেরব হাসান নগরের রাজপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে রাজশাহী ও নাটোর জেলা পুলিশ দ্রুত অভিযানে নেমে চোরচক্রটিকে শনাক্ত করে মালামাল উদ্ধার করে।

পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া খোয়া যাওয়া নগদ তিন লাখ টাকা উদ্ধার এবং চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।