আলফাডাঙ্গায় চরাঞ্চলের ৬৫ খামারিকে হাঁস ও আর্থিক সহায়তা
“আমিষেই শক্তি, আমিষেই মুক্তি”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় চরাঞ্চলের খামারিদের জীবনমান উন্নয়নে হাঁস বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদীবিধৌত চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আলফাডাঙ্গা উপজেলায় ৬৫ জন সুফলভোগী খামারির মাঝে প্রত্যেককে ২১টি করে হাঁস বিতরণ করা হয়।
পাশাপাশি হাঁস পালন কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রতি খামারির মাঝে ৮ হাজার ৮০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল, আলফাডাঙ্গা, ফরিদপুরের আয়োজনে এই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ. কে. এম. আসজাদ। তিনি বলেন,চরাঞ্চলের মানুষের আয় বৃদ্ধির জন্য হাঁস পালন একটি কার্যকর উদ্যোগ। এ প্রকল্পের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের পাশাপাশি পুষ্টির চাহিদাও পূরণ হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ভবেন বাইন। তিনি বলেন,প্রাণিসম্পদভিত্তিক এই সহায়তা কার্যক্রম খামারিদের স্বাবলম্বী করে তুলবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তরুণ বসু। তিনি বলেন,হাঁস পালন ও মাছ চাষ একসঙ্গে করলে চরাঞ্চলে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব।
এছাড়া ডা. আব্দুস সালাম বলেন,খামারিরা যদি সঠিক পরিচর্যা ও টিকাদান নিশ্চিত করেন, তাহলে হাঁস পালনে ঝুঁকি কমবে এবং লাভ বেশি হবে।
সুফলভোগী খামারিদের মধ্যে টিটা গ্রামের সালেহা বেগম বলেন,এই হাঁস ও আর্থিক সহায়তা পেয়ে আমাদের সংসারে নতুন আশার আলো এসেছে। আমরা এখন নিজেরাই কিছু করতে পারব।
একই গ্রামের সুফলভোগী রহিমা খাতুন বলেন,
“আগে কাজের অভাবে কষ্টে দিন কাটাতাম। এখন হাঁস পালন করে আয় বাড়ানোর সুযোগ পেলাম।
অপর সুফলভোগী খামারি আব্দুল কাদের বলেন,সরকারের এই সহায়তা আমাদের মতো গরিব খামারিদের জন্য খুবই উপকারী। আমরা কৃতজ্ঞ।
অনুষ্ঠান শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে খামারিদের মাঝে হাঁস ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয় এবং প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা খামারিদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
What's Your Reaction?
কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর ) প্রতিনিধিঃ