নরওয়েকে কখনোই হারাতে পারেনি ব্রাজিল

অনলাইন ডেস্কঃ
১ জুলাই, ২০২৬ ১১:২৬ এএম
শেয়ার করুন:
নরওয়েকে কখনোই হারাতে পারেনি ব্রাজিল

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ব্রাজিল ও নরওয়ে। কাগজ-কলমে ও নামের ভারে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন সেলেসাওরাই এই ম্যাচে ফেবারিট। তবে ইতিহাসের পাতা উল্টালে এক চরম অস্বস্তিকর চিত্র সামনে আসে। আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে নরওয়ের বিপক্ষে এখনো কোনো জয়ের স্বাদ পায়নি ব্রাজিল।

ইতিহাসের সেই জয়হীন রেকর্ড
বিশ্বকাপের মঞ্চে এর আগে একবারই মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মাঠে নেমেছিল ব্রাজিল। কিন্তু গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে শেষদিকের নাটকীয়তায় ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে বড় অঘটন ঘটিয়েছিল নরওয়ে। সেই জয়ের সুবাদেই তারা পৌঁছে গিয়েছিল নকআউট পর্বে।

শুধু বিশ্বকাপ নয়, সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের পরিসংখ্যান বেশ হতাশাজনক। এখন পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি হয়ে একবারও নরওয়েকে হারাতে পারেনি সেলেসাওরা। চার ম্যাচের মধ্যে নরওয়ের জয় দুটি ম্যাচে এবং বাকি দুটি ম্যাচ অমীমাংসিত (ড্র) থেকেছে। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে খুব কম দলই ব্রাজিলের বিপক্ষে এমন অপরাজিত থাকার কীর্তি ধরে রাখতে পেরেছে।

দুই দলের প্রথম দেখা হয়েছিল ১৯৮৮ সালে ওসলোর উলেভাল স্টেডিয়ামে এক প্রীতি ম্যাচে, যা শেষ হয় ১-১ সমতায়। ১৯৯৭ সালে একই ভেন্যুতে দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচে রোনালদো, রোমারিও, দুঙ্গা, কাফু ও রবার্তো কার্লোসদের নিয়ে গড়া শক্তিশালী ব্রাজিলকে ৪-২ গোলে হারিয়ে দেয় নরওয়ে। এরপর ১৯৯৮ বিশ্বকাপের ঐতিহাসিক সেই ম্যাচের পর সর্বশেষ ২০০৬ সালে ওসলোর প্রীতি ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। ফলে চার ম্যাচে দুই হার ও দুই ড্রয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ব্রাজিল।

শক্তিশালী বর্তমান নরওয়ে দল
১৯৯৮ সালের নরওয়ের তুলনায় বর্তমান দলটিতে তারকা ফুটবলারের ছড়াছড়ি। দলটির আক্রমণভাগে রয়েছেন আর্লিং হালান্ড, মার্টিন ওডেগার্ড, আন্তোনিও নুসা এবং অস্কার ববের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা। চলমান বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে নরওয়ের ২-১ ব্যবধানের জয়ে শেষ মুহূর্তে ত্রাণকর্তা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন হালান্ড। ৮৬ মিনিটে তার করা গোলেই শেষ ষোলো নিশ্চিত করে নরওয়ে। এর আগে আন্তোনিও নুসার গোলে তারা এগিয়ে গেলেও সমতা ফিরিয়েছিলেন আইভরি কোস্টের আমাদ দিয়ালো।

ব্রাজিলের দুর্বলতা ও চ্যালেঞ্জ
অন্য দিকে, ব্রাজিলও সহজ পথে শেষ ষোলোতে পা রাখেনি। জাপানের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যদের। জাপানি মিডফিল্ডার কাইশু সানোর গোলে ধাক্কা খাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে কাসেমিরোর গোল এবং যোগ করা সময়ে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির লক্ষ্যভেদে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় ব্রাজিল।

তবে জাপানের বিপক্ষে জয় পেলেও ব্রাজিলের খেলায় কিছু দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিল্ডআপে ভুল, রক্ষণের পেছনের ফাঁকা জায়গা এবং কাসেমিরোর গতির ঘাটতি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ওপর মাঝমাঠের গুরুত্বপূর্ণ তারকা লুকাস পাকেতার ইনজুরি দলটিকে আরও বড় সংকটে ফেলেছে। শারীরিক ও সরাসরি ফুটবল খেলা নরওয়ের বিপক্ষে এই দুর্বলতাগুলো ব্রাজিলের জন্য বড় পরীক্ষার কারণ হতে পারে।

রণকৌশলের লড়াই
কোচ কার্লো আনচেলত্তির জন্য এই ম্যাচটি শুধু নকআউটের বাধা পার হওয়ার নয়, বরং অতীত ইতিহাসের মানসিক চাপ কাটিয়ে ওঠারও পরীক্ষা। প্রতিপক্ষ নরওয়ের মূল শক্তি হালান্ড হলেও ওডেগার্ডের মাঝমাঠের ছন্দ তৈরি করা, নুসার গতি এবং স্যান্ডার বার্গের মতো ফুটবলারদের কার্যকারিতা ব্রাজিলকে ভুগিয়ে তুলতে পারে।

ব্রাজিলের প্রধান ভরসা হিসেবে থাকছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ব্রুনো গিমারায়েস, কাসেমিরো ও মার্তিনেল্লি। এ ছাড়া বড় ম্যাচের খেলোয়াড় নেইমারকে প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারেন আনচেলত্তি। তবে পাকেতার অনুপস্থিতিতে মাঝমাঠের কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হতে পারে সেলেসাওদের।

ইতিহাস সরাসরি মাঠে গোল এনে দেয় না, তবে এটি নিশ্চিতভাবেই মানসিক চাপ তৈরি করে। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সামনে এবার সুযোগ এসেছে ঐতিহাসিক জয়খরা কাটিয়ে ওঠার, আর নরওয়ের লক্ষ্য থাকবে ব্রাজিলের বিপক্ষে নিজেদের অপরাজিত থাকার রেকর্ডটি অক্ষুণ্ন রাখা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।