মেলায় ঘুরতে গিয়ে নিখোঁজ, ফোনে ‘লাশের অবস্থান’ জানাল কর্মচারী

অনলাইন ডেস্কঃ
৩০ জুন, ২০২৬ ১১:০৪ এএম
শেয়ার করুন:
মেলায় ঘুরতে গিয়ে নিখোঁজ, ফোনে ‘লাশের অবস্থান’ জানাল কর্মচারী

ফরিদপুরের সদরপুরে মেলায় ঘুরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া আট বছর বয়সী শিশু শাহাদাত বেপারির গলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের তিন দিন পর উপজেলার চরনাছিরপুর ইউনিয়নের আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ের একটি কাশবনে তার মরদেহের সন্ধান মেলে। অভিযোগ উঠেছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত মেলা প্রাঙ্গণের একটি দোলনার (নাগরদোলা) কর্মচারী ইয়াছিন (১৮) নিজেই ফোন করে শিশুটির পরিবারকে লাশের অবস্থান জানান। ফোন দেওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত ইয়াছিন পলাতক রয়েছেন।

এদিকে এই ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মেলায় থাকা ওই দোলনার মালিক ও অন্য পাঁচ কর্মচারীকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৬ জুন) চন্দ্রপাড়া দরবার সংলগ্ন ট্রলারঘাটে মহররম উপলক্ষে আয়োজিত মেলায় ঘুরতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শিশু শাহাদাত। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করার পাশাপাশি এলাকায় মাইকিং করেও তার সন্ধান পাননি। 

অবশেষে সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে দোলনার কর্মচারী ইয়াছিন শিশুটির বোন রওশনারাকে মোবাইলে ফোন করে লাশের সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানান। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পরিবারের সদস্যরা আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ের কাশবনে গিয়ে শাহাদাতের গলিত লাশ শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে সদরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা মেলা প্রাঙ্গণে থাকা দোলনার মালিক ও অন্য কর্মচারীদের আটকে গণপিটুনি দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং তাদের নিজেদের হেফাজতে নেয়। 

আটককৃতরা হলেন—
১. দেলোয়ার বেপারী (দোলনার মালিক), শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মদনতালুকদারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা।
২. রিয়াজ, ঝিনাইদহ সদরের নারানপুর গ্রামের বাসিন্দা।
৩. তামিম মোল্যা, মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা।
৪. জিহাদ মাহমুদ, ঝিনাইদহের হাটগোপালপুর এলাকার বাসিন্দা।
৫. শাকিল ইসলাম, ঝিনাইদহ সদরের খোদাবাকরি গ্রামের বাসিন্দা।

ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মো. রেজওয়ান দীপু এবং সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ বিষয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ইয়াছিন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাকে দ্রুত গ্রেপ্তারসহ ঘটনার সাথে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।