'ওপেনহেইমার’কে ছাড়িয়ে শীর্ষে বায়োপিক ‘মাইকেল’

অনলাইন ডেস্কঃ
৩০ জুন, ২০২৬ ২:২১ পিএম
শেয়ার করুন:
'ওপেনহেইমার’কে ছাড়িয়ে শীর্ষে বায়োপিক ‘মাইকেল’

পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের জীবনীর ওপর ভিত্তি করে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘মাইকেল’ বিশ্বজুড়ে বক্স অফিসে আয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছে। ক্রিস্টোফার নোলানের বহুল আলোচিত সিনেমা ‘ওপেনহেইমার’কে টপকে এটি এখন বিশ্বের সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়কারী বায়োপিক (জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র)। বিশ্বজুড়ে ৯৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার আয় করে এই অনন্য কীর্তি গড়েছে সিনেমাটি।

হলিউডভিত্তিক বিনোদন সাময়িকী *ভ্যারাইটি*-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরমাণু বোমার জনক জে রবার্ট ওপেনহেইমারের জীবনী অবলম্বনে নির্মিত ‘ওপেনহেইমার’ সিনেমার বৈশ্বিক আয় ছিল ৯৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এতদিন এটিই ছিল সর্বোচ্চ আয়ের বায়োপিক। সেই রেকর্ড ভেঙে এখন চূড়ায় বসল ‘মাইকেল’। 

একই সঙ্গে সংগীতশিল্পীদের নিয়ে তৈরি বায়োপিকের তালিকাতেও শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে এই চলচ্চিত্র। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল ব্রিটিশ ব্যান্ড ‘কুইন’-এর প্রধান গায়ক ফ্রেডি মার্কারির জীবনীচিত্র ‘বোহেমিয়ান র‍্যাপসোডি’র (৯১ কোটি ১০ লাখ ডলার) দখলে।

আয়ের খতিয়ান ও রেকর্ড ভাঙার খেলা
গত এপ্রিলে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত শুধু উত্তর আমেরিকার বাজার থেকেই সিনেমাটি আয় করেছে ৩৭ কোটি ২০ লাখ ডলার। আর আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এসেছে আরও ৬০ কোটি ৭২ লাখ ডলার। 

মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই বিশ্বজুড়ে বাজিমাত করেছিল ছবিটি। প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে ৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার এবং আন্তর্জাতিক বাজারসহ মোট ২১ কোটি ৭০ লাখ ডলার আয় করে সংগীতভিত্তিক বায়োপিকের ইতিহাসে উদ্বোধনী আয়ের নতুন রেকর্ড গড়ে। এর আগে সর্বোচ্চ ৬ কোটি ডলার উদ্বোধনী আয়ের রেকর্ড নিয়ে শীর্ষে ছিল ‘স্ট্রেইট আউটা কম্পটন’।

পর্দায় পপসম্রাটের জীবনের পথচলা
অ্যান্টনি ফুকুয়া পরিচালিত এই সিনেমাটিতে মাইকেল জ্যাকসনের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তার আপন ভাতিজা জাফর জ্যাকসন। এই ছবির মাধ্যমেই বড় পর্দায় অভিষেক হলো তার। চলচ্চিত্রে মাইকেল জ্যাকসনের শৈশব, ‘দ্য জ্যাকসন ৫’ ব্যান্ডের সদস্য হিসেবে সংগীতজগতে আত্মপ্রকাশ এবং ধাপে ধাপে ‘কিং অব পপ’ হয়ে ওঠার রোমাঞ্চকর যাত্রা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পর্দায় তার নিখুঁত নাচ, কালজয়ী গান ও মঞ্চপরিবেশনার অসাধারণ উপস্থাপনা দর্শকদের বারবার প্রেক্ষাগৃহে টেনে আনছে।

প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের বড় সাফল্য
এই অভাবনীয় বাণিজ্যিক সাফল্যের হাত ধরে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘লায়ন্সগেট স্টুডিও’র ইতিহাসেও এটি সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্র হিসেবে নাম লিখিয়েছে। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ডটি ছিল ‘দ্য হাঙ্গার গেমস: ক্যাচিং ফায়ার’ (৮৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার) ছবির ঝুলিতে। বক্স অফিসে এমন অভাবনীয় সাড়া পাওয়ার পর লায়ন্সগেট মাইকেল জ্যাকসনকে নিয়ে ভবিষ্যতে আরও অন্তত একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা করছে।

সাফল্যের আড়ালে সমালোচনা
বক্স অফিসে আয়ের দিক থেকে একের পর এক রেকর্ড গড়লেও সিনেমাটি চলচ্চিত্র সমালোচকদের তীক্ষ্ণ তিরস্কারের মুখোমুখি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের সবচেয়ে বিতর্কিত অধ্যায়—বিশেষ করে তার বিরুদ্ধে ওঠা শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগগুলো এই সিনেমায় অত্যন্ত সচেতনভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। দর্শকদের সামনে পপ তারকার একটি বিতর্কহীন ও ‘পরিশোধিত’ ভাবমূর্তি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করছেন অনেক সমালোচক।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।