আ.লীগের জায়গা আছে, বিএনপি-জামায়াতের যাওয়ার জায়গা নেই’

অনলাইন ডেস্কঃ
২৫ জুন, ২০২৬ ১০:৩৬ এএম
শেয়ার করুন:
আ.লীগের জায়গা আছে, বিএনপি-জামায়াতের যাওয়ার জায়গা নেই’

দেশের জনগণ গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত ও দেশছাড়া করেছে। এখন বিএনপি ও জামায়াতকে গভীরভাবে ভাবতে হবে যে, তারা যদি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে না পারে এবং চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির পথে হাঁটে, তবে তাদেরও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে। এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে সাতক্ষীরা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেছেন, "তাদের (আওয়ামী লীগের) যাওয়ার জায়গা থাকলেও, বিএনপি-জামায়াতের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।"

বুধবার (২৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট ও দ্বিতীয় অধিবেশনের ১৪তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বাজেট ঘাটতি ও ঋণের বোঝা নিয়ে উদ্বেগ
প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ইজ্জত উল্লাহ বলেন, অর্থমন্ত্রী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছেন, যেখানে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। কাগজে-কলমে ঘাটতি দেখানো হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় এবারও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য পূরণ না হলে প্রকৃত ঘাটতি প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকায় দাঁড়াতে পারে। 

দেশের ক্রমবর্ধমান ঋণের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে, তখন দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ২ লাখ ৭৬ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে সেই ঋণ দাঁড়িয়েছে ৩০ লাখ কোটি টাকায় (৩০ ট্রিলিয়ন)। এই বিশাল ঋণের সুদ মেটাতেই এ বছর সরকারকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা খরচ করতে হবে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এভাবে ক্রমাগত ঋণের বোঝা বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে দেশ চালানোই কঠিন হয়ে পড়বে।

ব্যাংক খাত ও মুদ্রাস্ফীতি
ইজ্জত উল্লাহ দেশের খেলাপি ঋণের সংকট তুলে ধরে বলেন, ২০২৬ সালের মার্চ মাস শেষে দেশের ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলো সরকারকে ঋণ দিতে ব্যর্থ হলে, সরকারকে নতুন টাকা ছাপিয়ে চাহিদা মেটাতে হবে। ইতিমধ্যে সরকার টাকা ছাপিয়ে ব্যাংকগুলোকে দিচ্ছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এভাবে টাকা ছাপানো অব্যাহত থাকলে দেশে মুদ্রাস্ফীতি চরম আকার ধারণ করবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হবে।

সহনশীল রাজনীতির তাগিদ
সংসদে বিরোধী দলের গুরুত্ব তুলে ধরে এই সংসদ সদস্য বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারি ও বিরোধী দল মিলেই একটি রাষ্ট্র পরিচালিত হয়। তাই বিরোধী দলের গঠনমূলক সমালোচনাকে সরকারের ইতিবাচকভাবে নেওয়া উচিত। সরকারি দলের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সমালোচনা শুনলেই অসহিষ্ণু হওয়া চলবে না। দেশের মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।