সুইডেনকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে ঘুরে দাঁড়াল নেদারল্যান্ডস

অনলাইন ডেস্কঃ
২১ জুন, ২০২৬ ১১:৩৭ এএম
শেয়ার করুন:
সুইডেনকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে ঘুরে দাঁড়াল নেদারল্যান্ডস

প্রথম ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে লিড হারিয়ে পয়েন্ট খোয়ানোর পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল নেদারল্যান্ডস। অন্যদিকে, নিজেদের প্রথম ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করে উড়ছিল সুইডেন। তবে হিউস্টনের মাঠে ডাচদের সামনে সুইডিশদের সেই আত্মবিশ্বাস ধুলোয় মিশে গেল। ব্রায়ান ব্রোবি ও কোডি গাকপোর জোড়া গোলের ওপর ভর করে সুইডেনকে ৫-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে গ্রুপ ‘এফ’-এ দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল রোনাল্ড কোম্যানের দল।

নেদারল্যান্ডসের হয়ে ম্যাচের শেষ দিকে অন্য গোলটি করেন ক্রাইসেন্সিও সামারভিল। আর সুইডেনের পক্ষে একমাত্র সান্ত্বনাসূচক গোলটি আসে অ্যান্থনি এলাঙ্গার পা থেকে।

প্রথমার্ধেই ডাচদের আধিপত্য
জাপানের বিপক্ষে আগের ম্যাচে ২-২ গোলে ড্র করা ডাচদের জন্য এই ম্যাচটি ছিল নিজেদের প্রমাণের মোক্ষম সুযোগ। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে কোম্যানের শিষ্যরা। বিশেষ করে একাদশে ব্রায়ান ব্রোবিকে নামানোর কৌশলটি শুরুতেই কাজে লেগে যায়। 

ম্যাচের মাত্র ৬ষ্ঠ মিনিটে কোডি গাকপোর পাস থেকে চমৎকার এক গোলে ডাচদের উৎসবের উপলক্ষ এনে দেন ব্রোবি। এর ঠিক ১১ মিনিট পর (১৭ মিনিটে) ডান দিক থেকে ডেনজেল ডামফ্রিসের নিখুঁত ক্রসে পা ছুঁইয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এই ফরোয়ার্ড। প্রথম ২০ মিনিটের মধ্যেই ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়ে সুইডেন। 

সুইডিশ ফরোয়ার্ড লাইনে আলেক্সান্ডার ইসাক ও ভিক্টর ইয়োকেরেস থাকলেও ভার্জিল ফন ডাইক এবং মিকি ফন দে ফেনের জমাট রক্ষণভাগ ভেদ করা তাদের জন্য কঠিন ছিল। প্রথমার্ধের শেষ দিকে গ্রাহাম পটারের দল ম্যাচে ফেরার কিছুটা চেষ্টা করে বল জালে পাঠালেও তা অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এছাড়া ডাচ গোলরক্ষক বার্ট ভারব্রুগেনের দারুণ কিছু সেভের সুবাদে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় নেদারল্যান্ডস।

দ্বিতীয়ার্ধে গাকপো-ঝড়
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সুইডেনের রক্ষণভাগকে আবারও চেপে ধরে ডাচ আক্রমণভাগ। ৪৭ মিনিটে গাকপো গোল করে ব্যবধান ৩-০ করেন। এরপর ৫৪ মিনিটে দ্রুতগতির এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন লিভারপুলের এই ফরোয়ার্ড। সুইডিশ ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে কাছের পোস্টে নেওয়া তার নিখুঁত শটটি গোললাইন অতিক্রম করলে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায় সুইডেন।

সান্ত্বনার গোল ও সামারভিলের শেষ পেরেক
৪-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও হাল ছাড়েনি সুইডেন। ৫৯ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নামা অ্যান্থনি এলাঙ্গা ব্যবধান কিছুটা কমান। আয়ারির বাড়িয়ে দেওয়া বল ধরে ঠাণ্ডা মাথায় ডাচ গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। তবে এই গোলটি সুইডেনকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও ম্যাচে ফেরার মতো পর্যাপ্ত চাপ তারা সৃষ্টি করতে পারেনি। 

ম্যাচের ৮৯ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা ডাচ ফরোয়ার্ড ক্রাইসেন্সিও সামারভিল বক্সের বাইরে থেকে দর্শনীয় এক শটে বল জালে জড়ালে ৫-১ ব্যবধানের বিশাল জয় নিশ্চিত হয় নেদারল্যান্ডসের।

গ্রুপ পর্বে দল দুটির সমীকরণ
এই বড় জয়ের সুবাদে ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এফ’-এর বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে চলে গেল নেদারল্যান্ডস। শুধু পয়েন্ট টেবিলই নয়, গোল ব্যবধানেও বেশ এগিয়ে রইল তারা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তিউনিসিয়ার মুখোমুখি হবে কোম্যানের দল। 

অন্যদিকে, প্রথম ম্যাচে বড় জয় পেলেও ডাচদের কাছে এভাবে বিধ্বস্ত হওয়া সুইডেনের জন্য বড় একটি ধাক্কা। গোল ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পাশাপাশি শেষ ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে জয়ের চাপ আরও বেড়ে গেল গ্রাহাম পটারের দলের ওপর।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।