ইকুয়েডরকে রুখে দিয়ে কুরাসাওয়ের ইতিহাস

অনলাইন ডেস্কঃ
২১ জুন, ২০২৬ ১০:৪৫ এএম
শেয়ার করুন:
ইকুয়েডরকে রুখে দিয়ে কুরাসাওয়ের ইতিহাস

ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট অর্জন করে ইতিহাস গড়ল কুরাসাও। আর এই ঐতিহাসিক অর্জনের মহানায়ক দলটির ৩৭ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক এলয় রুম। কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘ই’-এর ম্যাচে শক্তিশালী ইকুয়েডরের একের পর এক আক্রমণ একাই নস্যাৎ করে দিয়ে কুরাসাওকে গোলশূন্য (০-০) ড্র উপহার দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে পুরো ম্যাচে আধিপত্য বজায় রেখেও ফিনিশিংয়ের চরম ব্যর্থতায় টানা দ্বিতীয় ম্যাচে পয়েন্ট হারাল ইকুয়েডর।

প্রথম ম্যাচে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর কুরাসাওয়ের জন্য ঘুরে দাঁড়ানোটা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। অপরদিকে আইভরি কোস্টের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ শুরু করা ইকুয়েডরের লক্ষ্য ছিল এই ম্যাচ দিয়ে জয়ের ধারায় ফেরা। কাগজে-কলমে ফেভারিট হিসেবে মাঠে নেমে ইকুয়েডর শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে। কিন্তু কুরাসাওয়ের জমাট রক্ষণভাগ আর গোলরক্ষক এলয় রুমের অবিশ্বাস্য প্রাচীর ভাঙতে পারেনি তারা।

ম্যাচের শুরুতেই মোয়েসেস কাইসেদোর পাস থেকে বড় সুযোগ পেয়েছিলেন ইকুয়েডরের তারকা ফরোয়ার্ড এননার ভ্যালেন্সিয়া। তবে দুর্দান্ত এক সেভে দলকে রক্ষা করেন রুম। এরপর জন ইয়েবোয়া, গনসালো প্লাতা ও পেদ্রো ভিতেরারা একের পর এক আক্রমণ করেও গোলের দেখা পাননি। 

প্রথমার্ধে প্রায় ৭৫ শতাংশ সময় বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল সেবাস্তিয়ান বেকাসেসের শিষ্যরা। তবে কুরাসাও নিজেদের ডি-বক্সের সামনে নিশ্ছিদ্র রক্ষণ দেয়াল তুলে দাঁড়িয়ে যায় এবং সুযোগ বুঝে কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠার চেষ্টা করে। ৪২ মিনিটে প্লাতার একটি নিশ্চিত শট ঠেকিয়ে দিয়ে ইকুয়েডরকে হতাশায় ডুবিয়ে প্রথমার্ধ গোলশূন্য রাখেন রুম।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়াতে ইকুয়েডর কোচ মাঠে নামান কেভিন রদ্রিগেজকে। কাইসেদোর দূরপাল্লার শট কিংবা ভ্যালেন্সিয়ার আক্রমণ—সব প্রচেষ্টাই রুমের বিশ্বস্ত গ্লাভসে বন্দি হয়। ৬০তম মিনিটে ম্যাচের উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। ইকুয়েডরের আক্রমণের পর কুরাসাও একটি চমৎকার প্রতি-আক্রমণ সাজালেও ইকুয়েডর গোলরক্ষক হার্নান গালিন্দেস টানা কয়েকটি সেভ করে দলকে বিপদমুক্ত করেন। এরপর ৬৫ মিনিটে ভ্যালেন্সিয়ার একটি জোরালো হেডও দক্ষতার সাথে ফিরিয়ে দেন রুম।

ম্যাচের শেষ দিকে নাটকীয়তা আরও বাড়ে। ৮৪ মিনিটে একদম ফাঁকায় ওয়ান-অন-ওয়ান পজিশনে গিয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন ভ্যালেন্সিয়া। শেষ মুহূর্তে আনহেলো প্রেসিয়াদোর একটি ক্রস ডিফ্লেকশন হয়ে ক্রসবারে লেগে ফিরে আসলে কপাল পোড়ে ইকুয়েডরের। অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টির জোরালো আবেদন জানালেও ভিএআর (VAR) রিভিউতে তা নাকচ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ০-০ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় দুই দলকে। 

ম্যাচজুড়ে মোট ১৫টি অসাধারণ সেভ করেছেন এলয় রুম, যা বিশ্বকাপের এক ম্যাচে সর্বোচ্চ সেভের রেকর্ড স্পর্শ করা থেকে মাত্র ১টি কম। 

গ্রুপের অন্য ম্যাচে ডেনিজ উনদাভের জোড়া গোলে আইভরি কোস্টকে হারিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে জার্মানি। দুই ম্যাচে মাত্র ১ পয়েন্ট পাওয়া ইকুয়েডরের জন্য এখন নকআউটের পথ কঠিন হয়ে উঠল; বিশেষ করে টুর্নামেন্টে এখনও কোনো গোল করতে না পারাটা তাদের বড় উদ্বেগের কারণ। অপরদিকে, ঐতিহাসিক এই ড্রয়ের পর নতুন স্বপ্ন বুনছে কুরাসাও। শেষ ম্যাচে আইভরি কোস্টকে হারাতে পারলে ৪ পয়েন্ট নিয়ে সেরা তৃতীয় দল হিসেবে নকআউট পর্বে যাওয়ার চমৎকার সুযোগ থাকবে ছোট এই দলটির সামনে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।