বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে কৃষককে মারধরের অভিযোগ, ৪ ঘণ্টা পর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্কঃ
২১ জুন, ২০২৬ ১০:৪১ এএম
শেয়ার করুন:
বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে কৃষককে মারধরের অভিযোগ, ৪ ঘণ্টা পর মৃত্যু

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় এক ইউনিয়ন বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এক কৃষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। মারধরের ঘটনার প্রায় চার ঘণ্টা পর ওই কৃষকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। 

শনিবার (২০ জুন) রাতে উপজেলার কৈডাঙ্গা গ্রাম থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেয়। 

নিহত কৃষকের নাম জামিল হোসেন (৫০)। তিনি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার হরিনা গ্রামের আবু মণ্ডলের ছেলে। 

অভিযুক্ত ইউসুফ আলী ভাঙ্গুড়া উপজেলার চড়-ভাঙ্গুড়া গ্রামের কুদ্দুস মণ্ডলের ছেলে। তিনি সদর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক এবং বর্তমানে সদর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্র:  
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০ দিন আগে ধান মাড়াইয়ের কাজ করতে জামিল হোসেন তার মেয়ে, মেয়ের জামাই ও চাচাতো ভাইকে নিয়ে ভাঙ্গুড়ায় আসেন। তারা উপজেলার কৈডাঙ্গা গ্রামে রেললাইনের পাশে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন। 

নিহতের মেয়ের জামাই আব্দুল কাদের অভিযোগ করে বলেন, শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইউসুফ আলী আমার শ্বশুরকে ধান মাড়াইয়ের কাজ করতে চাপ দেন। কাজ করতে কিছুটা দেরি হবে জানালে ইউসুফ ক্ষিপ্ত হয়ে ধান মাড়াই মেশিনের চাবি কেড়ে নেন। পরে চাবি ফেরত চাইলে সেই চাবি দিয়েই তাকে বেদম মারধর করা হয় এবং জোরপূর্বক ধান মাড়াইয়ের কাজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রচণ্ড গরমে তিন বিঘা জমির ধান মাড়াই করতে বাধ্য হন জামিল হোসেন।

তিনি আরও জানান, কাজ শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তারা ভাড়া বাসায় ফিরে আসেন। সেখানে জামিল হোসেন অস্বস্তি অনুভব করলে পাশের নদীতে গোসল করতে যান। গোসল শেষে ফিরে আসার পরপরই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। জামিল আগে থেকেই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। 

অভিযোগ রয়েছে, মৃত্যুর পর ইউসুফ আলীর চাপে পরিবারটি তড়িঘড়ি করে মরদেহ নিয়ে নিজ এলাকায় চলে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। তবে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে ভাঙ্গুড়া থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

বিএনপি নেতার বক্তব্য:  
এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নূর-মুজাহিদ স্বপন জানান, ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। অভিযুক্ত ইউসুফ আলীর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এবং তিনি সপরিবারে পলাতক থাকায় তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশের বক্তব্য:  
মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী ভাঙ্গুড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমার বলেন, প্রাথমিকভাবে নিহতের মাথার পেছনে সামান্য কাটাছেঁড়ার দাগ পাওয়া গেছে। মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার কারণে ওই আঘাত লেগে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া শরীরের অন্য কোথাও দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আজম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।