এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আজ সোমবার (২২ জুন) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণা করতে পারেন[1]। সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে[1]। এর ফলে আগামী শরৎকালের মধ্যেই কোনো বড় ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই অ্যান্ডি বার্নহামের পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ সুগম হতে পারে[1]।
ক্যাবিনেট মন্ত্রীদের একাংশের ধারণা, স্টারমার আজ ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে দাঁড়িয়েই তাঁর এই সিদ্ধান্তের কথা দেশবাসীকে জানাবেন[1]। আর এটি কার্যকর হলে, গত এক দশকে যুক্তরাজ্য তাদের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে[1]।
নেপথ্যে মন্ত্রীদের চাপ ও উপনির্বাচনের ধাক্কা
মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়ে পার্লামেন্টে ফিরেছেন অ্যান্ডি বার্নহাম[1]। তাঁর এই নাটকীয় প্রত্যাবর্তনই মূলত কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দেয়[1]। গতকাল রোববার পর্যন্ত ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের কর্মকর্তারা দাবি করছিলেন যে, স্টারমার তাঁর পদে অনড় আছেন এবং বার্নহামের কাছ থেকে আসতে যাওয়া যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন[1]।
তবে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায় যখন অন্তত ছয়জন ক্যাবিনেট মন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে স্টারমারকে জানিয়ে দেন যে, ‘তাঁর সময় শেষ’[1]। এর সঙ্গে যুক্ত হয় আগামীকাল মঙ্গলবারের ক্যাবিনেট বৈঠকের তীব্র চাপ[1]। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই প্রধানমন্ত্রী সপ্তাহান্তে চেকার্সের গ্রামীণ অবকাশ কেন্দ্রে নিজের পদত্যাগ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কাজ শুরু করেন[1]।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার থেকেই স্টারমার ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধারা পদত্যাগ ভাষণের খসড়া তৈরি করছেন[1]। সম্ভাব্য পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনি আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বে থাকবেন[1]। এতে করে সেপ্টেম্বরের দলীয় বার্ষিক সম্মেলনের আগেই নতুন নেতা দলের কর্মীদের গুছিয়ে নেওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ পাবেন[1]।
ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি
মেকারফিল্ড উপনির্বাচনের পর থেকে এখন পর্যন্ত স্টারমার ও বার্নহামের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে সরাসরি কোনো আলোচনা হয়নি[1]। তবে মন্ত্রিসভার একজন সদস্যের মতে, সেপ্টেম্বরের মধ্যে ক্ষমতা হস্তান্তর সম্পন্ন হওয়াটাই উভয়ের জন্য মঙ্গলজনক[1]। কারণ বার্নহামের এখনো ডাউনিং স্ট্রিট পরিচালনার মতো গোছানো কোনো টিম নেই, তাঁর প্রস্তুতির সময় দরকার[1]। অন্যদিকে কিয়ার স্টারমারও একটি সম্মানজনক বিদায়ের সুযোগ পাবেন[1]।
ব্রিটিশ সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী শরতের শেষ দিকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বাজেট পাস করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই তার আগেই ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে তোড়জোড় চলছে[1]। ইতোমধ্যে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিব ড্যারেন জোন্স ও বার্নহামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী লুইস হাইয়ের মধ্যে একটি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে[1]।
অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী কি আছেন?
অ্যান্ডি বার্নহামের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আর কেউ লড়বেন কি না, তা নিয়ে এখনো কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে[1]। সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং—যিনি স্টারমারের ওপর চাপ বাড়াতে সম্প্রতি পদত্যাগ করেছিলেন—তিনি ইতিমধ্যে লড়াইয়ে নামার ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন[1]। তাঁর দাবি, পার্লামেন্টের ৮১ জন এমপির সমর্থন তাঁর পক্ষে রয়েছে[1]।
কিছু সংসদ সদস্যের মতে, অ্যান্ডি বার্নহামের যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হওয়া ভালো[1]। তবে দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন এড়াতে স্ট্রিটিং শেষ পর্যন্ত সরেও দাঁড়াতে পারেন[1]। স্ট্রিটিং যদি শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে থাকেন, তবে মন্ত্রিসভার কোনো নারী সদস্যসহ আরও কয়েকজন প্রার্থী মাঠে নামতে পারেন, যাতে নেতৃত্ব নির্বাচন কেবল পুরুষ-কেন্দ্রিক না হয়[1]।
ট্রাম্পের মন্তব্য ও বাড়তি অস্বস্তি
ডাউনিং স্ট্রিটের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে স্টারমার পদত্যাগ করছেন[2][3]। ট্রাম্প লিখেছেন, কিয়ার স্টারমার অভিবাসন ও জ্বালানি নীতিতে ব্যর্থ হয়েছেন[2]। একই সঙ্গে তিনি স্টারমারের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভকামনাও জানিয়েছেন[2]।