স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে ইসির প্রস্তুতিতে ঘাটতি

অনলাইন ডেস্কঃ
২১ জুন, ২০২৬ ১:১২ পিএম
শেয়ার করুন:
স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে ইসির প্রস্তুতিতে ঘাটতি

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতিতে বড় ধরনের ঘাটতির মুখে পড়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একদিকে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত করা যায়নি নির্বাচন পরিচালনা ও আচরণ বিধিমালা, অন্যদিকে ভোটগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় নির্বাচনি সামগ্রীরও রয়েছে বড় ধরনের ঘাটতি। সরকার ঠিক কবে এবং কোন স্তর থেকে এই নির্বাচন শুরু করবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় নতুন করে কেনাকাটা করার ক্ষেত্রেও এক ধরনের দ্বিধায় রয়েছে এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

নির্বাচনি সামগ্রীর ঘাটতি ও পরিসংখ্যান
ইসির নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে মোট ৮৩ লাখ ৪৬ হাজার ৭২৮টি নির্বাচনি সামগ্রী প্রয়োজন। তবে বর্তমানে ইসির কাছে মজুত রয়েছে ৫৯ লাখ ২ হাজার সামগ্রী। ফলে প্রায় ২৪ লাখ ৪৫ হাজার সামগ্রীর ঘাটতি রয়েছে, যা চূড়ান্ত নিরীক্ষায় সামান্য কমবেশি হতে পারে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মোট ৯ ধরনের সামগ্রী প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে প্রধান সরঞ্জামগুলোর ঘাটতির চিত্র নিচে দেওয়া হলো:

ব্যালট বাক্সের লক: মোট প্রয়োজন ৪১ লাখ ৬১ হাজারটি। বর্তমানে মজুত রয়েছে ৩৭ লাখ ২৩ হাজার ৫০০টি; ঘাটতি রয়েছে ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০টি।
মার্কিং সিল: ঘাটতি ৪ লাখ ৬৩ হাজারটি।
অফিসিয়াল সিল: ঘাটতি ২ লাখ ৩০ হাজারটি।
স্ট্যাম্প প্যাড: ঘাটতি ৭৯ হাজারটি।
অমোচনীয় কালির কলম: মোট প্রয়োজন ৭ লাখ ৫৬ হাজারটি। মজুত রয়েছে ৭ লাখ ২১ হাজারটি; ঘাটতি রয়েছে ৩৪ হাজার ৮১৩টি। (উল্লেখ্য, দরপত্র আহ্বানসহ বিদেশ থেকে এই কলম আমদানি করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগে)।
ব্রাস সিল: ঘাটতি ২৫,১৪৬টি।
হেসিয়ান ব্যাগ: ঘাটতি ৩১,১৯০টি।
লাল গালা: ঘাটতি ২৫,০৪৬টি।
গানি ব্যাগ: ঘাটতি প্রায় ১১ হাজারটি।

কেনাকাটায় দ্বিধা ও ঝুঁকি
ইসির প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কেনা সামগ্রীগুলোই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ব্যবহার করার। তবে সম্প্রতি নির্বাচনি চেকলিস্ট তৈরি করার সময় সামগ্রীর এই ঘাটতিগুলো সামনে আসে। 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচনের সঠিক সময়সূচি নিশ্চিত না হওয়ায় এখনই সরঞ্জাম কেনা ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ কেনাকাটার পর নির্বাচন কোনো কারণে পিছিয়ে গেলে এসব সরঞ্জামের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। 

বিধিমালা চূড়ান্ত না হওয়ার চ্যালেঞ্জ
নির্বাচনের প্রস্তুতিতে বড় আরেকটি বাধা হলো বিধিমালা চূড়ান্ত না হওয়া। সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের মধ্যে ভোট সম্পন্ন করতে হলে আগস্টের মাঝেই তফসিল ঘোষণা করতে হবে। কিন্তু নির্বাচন পরিচালনা ও আচরণ বিধিমালার সংশোধনী এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ইসির তৈরি করা খসড়াটি বর্তমানে রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের মতামতের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে, যার সময়সীমা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত। এরপর সেসব মতামত সমন্বয় করে সরকারের অনুমোদন নিতে আরও বেশ কিছুটা সময় লাগবে।

সরকারের পরিকল্পনা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচন পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা হবে। বাজেট প্রাপ্তিসাপেক্ষে প্রথম ইউনিয়ন পরিষদ দিয়ে এই প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। 

তবে সরকার ও ইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তুতির বড় ধরনের ঘাটতি থাকায় চলতি বছর হয়তো সীমিত পরিসরে পরীক্ষামূলকভাবে কেবল ইউনিয়ন পরিষদ অথবা পৌরসভা—যেকোনো একটির নির্বাচন আয়োজন করা হতে পারে।

জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ধরন ও সরঞ্জামের ব্যবহারে বেশ ভিন্নতা রয়েছে। জাতীয় নির্বাচন একদিনে সম্পন্ন হলেও স্থানীয় নির্বাচন হয় ধাপে ধাপে। সব মিলিয়ে বিধিমালা চূড়ান্ত করা এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের এই ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা এখন নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।