দিল্লি বিমানবন্দরে ‘হেনস্তা’, দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্কঃ
১৫ জুন, ২০২৬ ২:১১ পিএম
শেয়ার করুন:
দিল্লি বিমানবন্দরে ‘হেনস্তা’, দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

ভারতের নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে সফর বাতিল করে দেশে ফিরে এসেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য, সম্প্রচার ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় আগে থেকে অবহিত করার পরও ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এই ‘অসম্মানজনক আচরণের’ প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি ভারতে প্রবেশ না করে বাংলাদেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

সফরের উদ্দেশ্য ও পটভূমি
আজ সোমবার থেকে নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল ডা. জাহেদ উর রহমানের। এই লক্ষ্যে গত রোববার সন্ধ্যায় তিনি দিল্লি পৌঁছান। 

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, উপদেষ্টার এই সফর এবং বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টি গত শুক্রবারই আনুষ্ঠানিকভাবে দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে কূটনৈতিকপত্রের (নোট ভারবাল) মাধ্যমে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছিল।

বিমানবন্দরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা
রোববার সন্ধ্যায় দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে অবতরণের পর ইমিগ্রেশন কাউন্টারে ডা. জাহেদ উর রহমানকে আটকে দেওয়া হয়। কোনো সুনির্দিষ্ট বা স্পষ্ট কারণ না জানিয়েই তাকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। 

উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এমন পরিস্থিতিতে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের আচরণে ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট হয়ে উপদেষ্টা নিজেই তার পাসপোর্ট ফেরত চান। তিনি ভারতে প্রবেশ না করে কলম্বো হয়ে ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। আজ সোমবার দুপুরের মধ্যে তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি ও প্রশাসনিক ত্রুটি
ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘নিউজ এইটটিন’-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নিরাপত্তা-সংক্রান্ত একটি ‘ওয়াচলিস্ট’ বা নজরদারি তালিকায় নাম থাকার কারণে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ডা. জাহেদ উর রহমানকে সাময়িকভাবে আটকে রেখেছিল। 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মূলত একটি প্রশাসনিক ভুলের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সংক্রান্ত একটি ‘কালো তালিকা’ থেকে তার নাম আগেই সরিয়ে ফেলা হলেও, ইমিগ্রেশনের ডেটাবেজে তা হালনাগাদ না হওয়ায় বিমানবন্দরে সতর্কতা সংকেত দেখায়। পরবর্তীতে বিষয়টি যাচাই-বাছাই শেষে সমাধান করে তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও, ততক্ষণে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের আচরণে অসন্তুষ্ট হয়ে তিনি দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া
এই অনাকাঙ্ক্ষিত কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতার বিষয়ে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ বা ভারতের সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।