বেনজীরকে পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশকে আমিরাতের চিঠি

অনলাইন ডেস্কঃ
১৫ জুন, ২০২৬ ৩:২৬ পিএম
শেয়ার করুন:
বেনজীরকে পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশকে আমিরাতের চিঠি

লন্ডনে অবস্থান শেষে এশিয়ার একটি দেশের উদ্দেশে যাওয়ার পথে দুবাই ট্রানজিটে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার সূত্রে ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে গত ১২ জুন তাকে গ্রেপ্তার করে দুবাই পুলিশ

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ‘এনসিবি আবুধাবি’ থেকে বাংলাদেশ পুলিশের ‘এনসিবি ঢাকা’ শাখায় একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে নিতে কূটনৈতিক মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণপত্র (হস্তান্তরের আবেদন) পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। 

গ্রেপ্তারের প্রেক্ষাপট ও আইনি প্রক্রিয়া

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোলের জারি করা রেড নোটিশ (নং- A-5174/4-2025) অনুযায়ী বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে আমিরাতের বিচারিক কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করা হলে, আদালত দেশটির 'ফেডারেল আইন নং ৩৯/২০০৬'-এর ১১ নং ধারা অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন।

আমিরাতের আইন অনুযায়ী, এই গ্রেপ্তারের পর থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক মাধ্যমের সাহায্যে লিখিতভাবে বাংলাদেশ সরকারকে একটি আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ জমা দিতে হবে।

প্রত্যর্পণের জন্য যেসব নথিপত্র প্রয়োজন

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফেডারেল আইন অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের জন্য মূল অনুরোধপত্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথিপত্র সম্পূর্ণ আরবি ভাষায় অনুবাদ করে, উপযুক্ত স্বাক্ষর ও সিলমোহরসহ জমা দিতে হবে। প্রয়োজনীয় নথিপত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে—

১. অভিযুক্তের বিবরণ: অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম, বিস্তারিত বিবরণ, ছবি এবং তার জাতীয়তা ও আবাসন সংক্রান্ত তথ্য।
২. আইনি ধারা ও শাস্তি: যে অপরাধের জন্য তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, বাংলাদেশের আইনে তার সংশ্লিষ্ট ধারা, সর্বোচ্চ শাস্তি এবং সীমাবদ্ধতার সংবিধির কপি।
৩. গ্রেপ্তারি পরোয়ানা: বাংলাদেশের বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জারিকৃত আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।
৪. তদন্ত প্রতিবেদন: মামলার ঘটনার বিবরণ, অপরাধের ধরন, সময় ও স্থান উল্লেখপূর্বক তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি।
৫. আদালতের রায় (সাজাপ্রাপ্ত হলে): যদি ব্যক্তিটি ইতোমধ্যে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন, তবে আদালতের রায় এবং সাজা কার্যকরের আনুষ্ঠানিক অনুলিপি।

পরবর্তী পদক্ষেপ

বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যাবতীয় নথিপত্র প্রস্তুত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের আবেদন প্রেরণের প্রক্রিয়া দ্রুততার সাথে শুরু করা হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।