জিয়াউর রহমানের ঘোষণাই মুক্তিযুদ্ধে উজ্জীবিত করেছে, সাদেক আহমেদ খাঁন
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ডের সদস্য সচিব সাদেক আহমেদ খাঁন বলেছেন, ‘‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঘোষণাই আমাদের মুক্তিযুদ্ধে উজ্জীবিত করেছিল। কিন্তু বিগত সময়ে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকেও তারা যথাযথ সম্মান দেননি। শেখ মুজিবকে অসম্মান করলে আমাদেরও কষ্ট লাগে, কিন্তু তার কন্যা পুরো মুক্তিযুদ্ধটাকে আওয়ামী লীগের দলীয় সম্পদে পরিণত করেছিলেন। গত ১৫-১৬ বছরে তারা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সুনাম নষ্ট করেছেন।’’
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের জেল রোডস্থ দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনের সরোদ মঞ্চে আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের করণীয় নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ড এই সভার আয়োজন করে।
জুলাই বিপ্লব ও সমসাময়িক রাজনীতি প্রসঙ্গে সাদেক আহমেদ খাঁন বলেন, ‘‘জুলাই যোদ্ধারা আমাদের গর্ব। একটি শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ থেকে আমাদের সন্তানরা রাষ্ট্রকে উদ্ধার করেছে। জুলাই সনদের মাধ্যমেই আপনার-আমার নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। তাই আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদকে স্বীকৃতি দিবো। ‘হ্যাঁ’ ভোট আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘জুলাই যোদ্ধাদের একটি পক্ষ জামায়াতের সাথে যাওয়ার কারণে তাদের একটি বড় অংশ পদত্যাগ করেছে। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, ৭১-এর পরাজিত শক্তিরা আবারও ফণা তুলেছে। তাই একাত্তরের মতো এবারও আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’’
মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা ও সংজ্ঞা প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব বলেন, ‘‘আমরা মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা মুক্ত করতে চাই। বর্তমানে প্রায় আড়াই লক্ষ মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত, কিন্তু একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কখনো এক হতে পারে না। আওয়ামী লীগ সরকার পাঁচবার মুক্তিযুদ্ধের সংজ্ঞা পরিবর্তন করেছে। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, যারা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন তারাই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। এটি এবার গেজেট আকারে প্রকাশ করা হচ্ছে।’’
মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘‘মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির হাজার বছরের অহংকার। হীনমন্যতায় ভুগবেন না, নিজেদের দুর্বল ভাববেন না। আমরা মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে চাই। আমরা রাষ্ট্রক্ষমতার ভাগ চাই না, কিন্তু সম্মান চাই। সামনে জাতীয় নির্বাচন, সবাই ভোট কেন্দ্রে যাবেন এবং যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচিত করবেন।’’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের আহবায়ক হাজী এমরানুর রেজার সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক আল আমিন শাহিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সদস্য আলহাজ নুরুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের মো. আব্দুল মান্নান এবং সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডার ফসিউর রহমান হাসান।
পরামর্শ সভায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর, আশুগঞ্জ, সরাইল, নাসিরনগর, কসবা, আখাউড়া, বাঞ্ছারামপুর, নবীনগর ও বিজয়নগর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড সংসদের কমান্ডারদের নেতৃত্বে জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা অংশগ্রহণ করেন।
What's Your Reaction?
জায়শা জাহান মিমি, স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ