এমবাপ্পের জোড়া গোলে শেষ ৩২ নিশ্চিত ফ্রান্সের

অনলাইন ডেস্কঃ
২৩ জুন, ২০২৬ ১১:৫৮ এএম
শেয়ার করুন:
এমবাপ্পের জোড়া গোলে শেষ ৩২ নিশ্চিত ফ্রান্সের

কিলিয়ান এমবাপ্পের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে ইরাককে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ৩২ (নকআউট পর্ব) নিশ্চিত করেছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স[1]। নিজের শততম আন্তর্জাতিক ম্যাচে জোড়া গোল করার পাশাপাশি নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন ফরাসি অধিনায়ক[2][3]। তীব্র ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে প্রায় সোয়া দুই ঘণ্টা ম্যাচ বন্ধ থাকার পরও মাঠের লড়াইয়ে কোনো অঘটন ঘটতে দেয়নি দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা[2][3][4]। ইরাককে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে 'আই' গ্রুপ থেকে এক ম্যাচ হাতে রেখেই পরবর্তী পর্বের টিকিট কেটেছে তারা[1][4]।

প্রথমার্ধ ও এমবাপ্পের রেকর্ড স্পর্শ

ফিলাডেলফিয়ার লিঙ্কন ফিন্যান্সিয়াল ফিল্ডে ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের করে নেয় ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা[1][2]। নিজের শততম আন্তর্জাতিক ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখতে একদমই সময় নেননি এমবাপ্পে[3]। ম্যাচের ১৪ মিনিটেই দলকে এগিয়ে নেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড[2][3]। ইরাকের ডিফেন্ডারদের একটি দুর্বল ক্লিয়ারেন্স থেকে বল পেয়ে মাইকেল অলিসের ব্যাকপাস কাজে লাগিয়ে চমৎকার ফিনিশিংয়ে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি[4]। এই গোলের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে নিজের ১৫তম গোল পূর্ণ করে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওর রেকর্ড স্পর্শ করেন ফরাসি অধিনায়ক[3][5]।

ঝড়-বৃষ্টির বাধা ও দীর্ঘ বিরতি

১-০ গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করার পর বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় বৈরী আবহাওয়া[6]। প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি ও স্টেডিয়ামের কাছাকাছি বজ্রপাতের আশঙ্কায় দ্বিতীয় ভাগের খেলা শুরু হতে সোয়া দুই ঘণ্টারও বেশি সময় বিলম্ব হয়[4][6]। তবে বিরতি শেষে মাঠে ফিরেও চেনা ছন্দ ধরে রাখতে ভুল করেনি ফ্রান্স[4]।

দ্বিতীয় গোল ও ক্লোসার পাশে এমবাপ্পে

ম্যাচের ৫৪ মিনিটে ইরাকের গোলরক্ষক আহমেদ বাসিল ও ডিফেন্ডারের ভুল বোঝাবুঝির পুরো ফায়দা তোলে ফ্রান্স[3][7]। গোল কিক থেকে ভুল পাস চলে যায় উসমান দেম্বেলের কাছে[2]। তিনি কোনো ভুল না করে বল বাড়িয়ে দেন গোলমুখে থাকা এমবাপ্পের দিকে[3]। সহজ সুযোগটি কাজে লাগিয়ে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপে নিজের ১৬তম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন এমবাপ্পে[2][7]। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসাকে স্পর্শ করেন[1][7]। তাঁর সামনে এখন রয়েছেন কেবল আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি (১৮ গোল)[1][3]।

দেম্বেলের গোল ও দিদিয়ের দেশমের কীর্তি

৬৬ মিনিটে ইরাকের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন উসমান দেম্বেলে[3][4]। অলিসের চমৎকার পাস থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের ডান দিক দিয়ে ভেতরে ঢুকে জোরালো শটে গোল করেন এই পিএসজি তারকা[2]। তাতেই ৩-০ গোলের দাপুটে জয় নিশ্চিত হয় ফরাসিদের[2][3]।

এই জয়ের মাধ্যমে ফ্রান্সের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশমও স্পর্শ করেছেন এক অনন্য রেকর্ড[1]। বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে সর্বোচ্চ ১৬টি ম্যাচ জয়ের কৃতিত্ব গড়ে জার্মানির সাবেক কোচ হেলমুট শ্যোনের পাশে বসেছেন তিনি[1]। পরবর্তী ম্যাচে নরওয়েকে হারাতে পারলে এককভাবে এই রেকর্ডের মালিক হবেন দেশম[1]।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে এমবাপ্পের সামনে হ্যাটট্রিকের সুযোগ এলেও তাঁর নেওয়া শটটি গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। তবে সেনেগালের পর ইরাকের বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট পর্বে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করল ফরাসিরা[1][2]।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।