রাজশাহী মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষের বাড়িতে ভাঙচুর

মো: গোলাম কিবরিয়া,রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি
৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ২:০২ পিএম
শেয়ার করুন:
রাজশাহী মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষের বাড়িতে ভাঙচুর

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষের বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ভাঁড়রা গ্রামে ওই বাড়িতে ভাঙচুর হয়।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও আওয়ামী–সমর্থিত সংগঠন ‘স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ’-এর (স্বাচিপ) সাংগঠনিক সম্পাদক নওশাদ আলীর বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। বুধবার মধ্যরাতে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ভাঁড়রা গ্রামে ওই বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালান ৪০ থেকে ৫০ জন।

উপজেলার বানেশ্বর ইউনিয়নের মাইপাড়া বাজার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দক্ষিণে ভাঁড়রা গ্রামের অবস্থান। সেখানে নওশাদের বাড়িতে সপরিবার থাকেন তাঁর ভাগনে ফয়সাল মোহাম্মদ রুবেল।

ফয়সাল জানান বুধবার  দিবাগত রাত ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে গেট ভাঙার শব্দে তাঁদের ঘুম ভেঙে যায়। হামলাকারী ব্যক্তিরা হেমার দিয়ে বাইরের গেট ভেঙে বাড়িতে ঢোকেন। তাঁরা দোতলা বাসার নিচতলাতেই ছিলেন। হামলাকারী ব্যক্তিরা ভেতরে ঢুকে তাঁদের বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। প্রাণের ভয়ে দুই শিশুসন্তান, স্ত্রী ও মাকে নিয়ে বাইরে চলে আসেন তিনি। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে হামলাকারী ব্যক্তিরা বাসার সব আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। এরপর শব্দ বন্ধ হলে তাঁরা বাসার দিকে ফিরে যান।

বৃহস্পতিবার সকালে ভাঁড়রা গ্রামের ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির মেঝেতে পা ফেলার মতো অবস্থা নেই। সব জায়গায় আসবাব ও অন্য জিনিসপত্রের ভাঙা টুকরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। হামলাকারী ব্যক্তিরা প্রতিটি বাথরুমে ঢুকে ফিটিংসগুলো ভেঙে ফেলেছেন। প্রতিটি জানালার থাই গ্লাস ভাঙা অবস্থায় মেঝেতে ছড়িয়ে আছে।

বিছানাপত্রসহ অন্য আসবাবপত্র ভেঙে–চুরে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে রাখা হয়েছে মেঝেতে।
এ ব্যাপারে জানতে চিকিৎসক নওশাদ আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। কারা এ হামলা চালিয়েছেন, জানতে চাইলে ফয়সাল বলেন, হামলাকারী ব্যক্তিদের সবারই মুখ ঢাকা ছিল, ফলে কাউকে চিনতে পারেননি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন  বলেন,  এ ব্যাপারে তাঁদের কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। এমনকি কোনো খবরও দেয়নি। পুলিশ এ ব্যাপারে কিছুই জানে না।

এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেলে একইভাবে উপজেলার পচামাড়িয়া গ্রামে উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা মহিলা যুব আওয়ামী লীগের সভাপতি মৌসুমী রহমানের বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। দিনের বেলায় ওই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলেও পুলিশ ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরও কিছু জানে না বলে জানিয়েছিল।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।