বোয়ালমারীতে মাদক কারবারি সন্দেহে গণপিটুনি ও গাড়িতে আগুন, মেলেনি মাদক

অনলাইন ডেস্কঃ
২৩ জুন, ২০২৬ ১০:৫৪ এএম
শেয়ার করুন:
বোয়ালমারীতে মাদক কারবারি সন্দেহে গণপিটুনি ও গাড়িতে আগুন, মেলেনি মাদক

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার আগেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এক চরম চিত্র দেখা গেছে ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে। মাদক কারবারি সন্দেহে এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে তার ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে উত্তেজিত জনতা। তবে মারধর ও অগ্নিসংযোগের পর তল্লাশি চালিয়েও ওই যুবকের কাছ থেকে কোনো মাদক উদ্ধার করা যায়নি। 

গত সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের মালিখালী বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত অবস্থায় ওই যুবককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত:
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ধুলজোড়া মালিখালী গ্রামের মানিক মোল্যার ছেলে মামুন মোল্যা একটি প্রাইভেটকার নিয়ে এলাকায় আসেন। এ সময় স্থানীয় কিছু লোক তাকে মাদক কারবারি হিসেবে সন্দেহ করে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা মামুনকে বেধড়ক মারধর শুরু করে এবং তার ব্যবহৃত গাড়িটিতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে এবং মামুনকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।

পরিবারের বক্তব্য:
মামুনের বাবা মানিক মোল্যা এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “আমার ছেলে ফরিদপুর আদালতে একটি মাদক মামলায় হাজিরা দিয়ে দুপুরে বাড়ি ফিরেছিল। বিকেলে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে সে তার চাচাশ্বশুরের প্রাইভেটকারটি নিয়ে বের হয়। পথিমধ্যে তাকে আটকে অতর্কিত এই হামলা চালানো হয়।”

তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে আরও বলেন, “আমার ছেলেকে নির্মমভাবে মারধর করার পর গাড়িটিতে আগুন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তল্লাশি করে এলাকাবাসী বা পুলিশ—কেউই কোনো মাদক পায়নি। সে এখন ভালো পথে ফিরে এসেছে। কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা আদালত রয়েছে। কিন্তু এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে শাস্তি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তবে পরবর্তীতে আরও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কায় হামলাকারীদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি।

পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য:
এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান জানান, আটককৃত মামুনের বিরুদ্ধে পূর্বের মাদক সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। স্থানীয়রা তাকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। তবে তল্লাশি চালিয়ে এই ঘটনার সময় তার কাছ থেকে কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি। গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সচেতন মহলের উদ্বেগ:
এদিকে কেবল সন্দেহের বশে এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা। তাদের মতে, অপরাধ দমনে সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধ জরুরি, তবে আইনের ওপর ভরসা না রেখে নিজেরা শাস্তি দেওয়ার এই প্রবণতা বন্ধ না হলে সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।