৭ মিনিটে ৩ গোল, অবিশ্বাস্য জয় রিয়ালের

অনলাইন ডেস্কঃ
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:০২ এএম
শেয়ার করুন:
৭ মিনিটে ৩ গোল, অবিশ্বাস্য জয় রিয়ালের

রোমের স্তাদিও অলিম্পিকোর গ্যালারিতে তখন আগাম উৎসবের আবহ। স্কোরবোর্ডে জ্বলজ্বল করছে ৩-১। ঘড়ির কাঁটায় ম্যাচের ৮২ মিনিট পেরিয়ে গেছে। পরাশক্তি রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে ঘরের মাঠেই জয়ের স্বাদ পেতে যাচ্ছে এএস রোমা—এমন বিশ্বাসে সমর্থকদের মুখে যখন বিজয়ের হাসি, ঠিক তখনই যেন নেমে এল রিয়াল মাদ্রিদের চিরচেনা সেই ‘চ্যাম্পিয়নস লিগ রূপকথা’।

চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাস বহুবার প্রমাণ করেছে, শেষ বাঁশি বাজার আগে রিয়াল মাদ্রিদকে পরাজিত ভাবাটাই সবচেয়ে বড় ভুল। রোমার মাঠে সেই সত্যেরই পুনর্মঞ্চায়ন দেখল ফুটবলবিশ্ব। ৮৩ থেকে ৯০—মাত্র সাত মিনিটের টর্নেডো আক্রমণে তিন গোল ফিরিয়ে দিয়ে রোমার সাজানো উৎসব লণ্ডভণ্ড করে দিল স্প্যানিশ জায়ান্টরা। কার্লোস এসপি, এনদ্রিক ও আন্তোনিও রুডিগারের গোলে ৪-৩ ব্যবধানের অবিশ্বাস্য জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে হোসে মরিনিওর শিষ্যরা।

ম্যাচের শুরু ও রোমার দাপট
ঘরের মাঠে রোমার শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। ম্যাচের ২০তম মিনিটে মাতিয়াস সুলের চমৎকার পাস থেকে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে দূরপাল্লার জোরালো শটে রোমাকে এগিয়ে দেন মার্তেন দে রুন। তবে স্বাগতিকদের এগিয়ে থাকার আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মাত্র পাঁচ মিনিট পরই চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের শততম ম্যাচ খেলতে নামা কিলিয়ান এমবাপের শট ডিফেন্ডার জিয়ানলুকা মানচিনির পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জড়ালে ১-১ সমতায় ফেরে রিয়াল।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে ফিরেই বিধ্বংসী রূপে হাজির হন দোনিয়েল মালেন। মাত্র ছয় মিনিটের ব্যবধানে দুর্দান্ত এক জোড়া গোল করে রোমাকে চালকের আসনে বসিয়ে দেন এই ডাচ স্ট্রাইকার। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বল হারানোর ভুলের সুযোগ নিয়ে প্রথম গোলটি করেন তিনি, যেখানে ফেদেরিকো ভালভের্দের গায়ে লেগে বল দিক হারায়। কিছুক্ষণ পর অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে ঠান্ডা মাথায় ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি (ভিএআরের সহায়তায় গোলটি নিশ্চিত হয়)।

গাসপেরিনির রক্ষণ বনাম মরিনিওর ট্রাম্পকার্ড
৩-১ গোলে এগিয়ে থাকার পর রোমার জয় প্রায় নিশ্চিত মনে হচ্ছিল। জয় সুসংহত করতে রোমা কোচ গাসপেরিনি রক্ষণ শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একের পর এক পরিবর্তন আনেন। কিন্তু রিয়ালের মতো দলের বিপক্ষে অতি-রক্ষণাত্মক হওয়ার ঝুঁকি যে কতটা মারাত্মক, তা হয়তো রোমা কল্পনাও করতে পারেনি।

রিয়াল বস মরিনিও শেষ দিকে একের পর এক আক্রমণাত্মক পরিবর্তন নিয়ে আসেন। বিশেষ করে আরদা গুলের ও তরুণ ফরোয়ার্ডরা মাঠে নামার পরই যেন বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট। গুলেরের নিখুঁত সেট-পিস রোমার রক্ষণভাগের দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়।

সাত মিনিটের সেই ম্যাজিক
৮৩ মিনিট: বদলি নামা তরুণ ব্রাজিলিয়ান এনদ্রিকের জোরালো হেড গোলরক্ষক পিয়েরলুইজি গোল্লিনি কোনোমতে প্রতিহত করলেও ফিরতি বল ফাঁকায় পেয়ে জালে জড়ান কার্লোস এসপি। স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-২।
৮৮ মিনিট: এবার গোলদাতার খাতায় এনদ্রিক নিজেই। আরদা গুলেরের মাপা কর্নার কিকে লাফিয়ে উঠে চমৎকার হেডে বল জালে পাঠান এই তরুণ তারকা। নিমেষেই ৩-৩ সমতায় রিয়াল!
৯০ মিনিট: গ্যালারিজুড়ে তখন সুনসান নীরবতা। ঠিক ৯০তম মিনিটে গুলেরের আরেকটি চমৎকার সেট-পিস থেকে বক্সের ভেতর দারুণ ভলিতে বল জালে জড়ান জার্মান ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগার। 

মাত্র ৭ মিনিটের ব্যবধানে রোমার চোখের সামনেই ম্যাচটি ৪-৩ ব্যবধানে ছিনিয়ে নিয়ে উল্লাসে মাতে রিয়াল মাদ্রিদ।

মরিনিওর সেই ‘মধুর প্রতিশোধ’
রাতটি রিয়াল কোচ হোসে মরিনিওর জন্য ছিল অত্যন্ত আবেগঘন। এই রোমাকেই ২০২১-২২ মৌসুমে ইউরোপিয়ান কনফারেন্স লিগের শিরোপা এনে দিয়েছিলেন তিনি। প্রিয় সেই সাবেক কোচের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গ্যালারিতে ব্যানারও টানিয়েছিলেন রোমা ভক্তরা। তবে রাতশেষে সেই ভালোবাসার মানুষটির রণকৌশলেই হৃদয় চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল পুরো অলিম্পিকো স্টেডিয়ামের।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।