আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ: আলফাডাঙ্গায় ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ
২০ জুন, ২০২৬ ১০:০১ পিএম
শেয়ার করুন:
আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ: আলফাডাঙ্গায় ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। একই সাথে শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন তারা। নিহত গৃহবধূর পরিবারের দাবি, দাম্পত্য কলহ ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

শনিবার (২০ জুন) বিকেলে উপজেলা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় নিহত নাসরিন বেগমের মামা মো. সেলিম শেখ সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের দাবি, প্রায় ১৮ বছর আগে বানা ইউনিয়নের উথলি গ্রামের মোশারফ মোল্যার মেয়ে নাসরিন বেগমের সাথে সদর ইউনিয়নের ধলাইরচর পশ্চিমপাড়া গ্রামের সামছুল শেখের ছেলে সৌদি প্রবাসী জাবেদ শেখ ওরফে বিশুর বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, প্রবাসে থাকা অবস্থায় স্বামী তার স্ত্রীর চাচাতো খালা সুরাইয়া খানম ওরফে মলির সাথে ফোনে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। ঘটনাটি জানাজানির পর দাম্পত্য জীবনে কলহের সৃষ্টি হয়। সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, বিশু প্রবাসে থাকা অবস্থায় ফোনে মলির সাথে গোপনে বিবাহের কাজ সম্পন্ন করেন। এ ঘটনা জানার পর বিশুর সাথে নাসরিনের সম্পর্কের ফাটল ধরে এবং নাসরিন মানসিক যন্ত্রণায় ভুগতে থাকেন।

তারা আরও বলেন, ২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল শুক্রবার দিবাগত রাতে এ বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মোবাইলে তুমুল ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে স্বামীর সাথে অভিমান করে ঘরের ভেতর সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে নাসরিন আত্মহত্যা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের মামা মো. সেলিম শেখ বাদী হয়ে নাসরিনের স্বামী জাবেদ শেখ ওরফে বিশুসহ শ্বশুর, দেবরসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে ফরিদপুরের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৯নং আমলী আদালতে নালিশি মামলা দায়ের করেন।

অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. রিয়াজ উদ্দীন বলেন, দণ্ডবিধির ৩০৬/৩৪ ধারা অনুযায়ী, কেউ যদি কাউকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয় এবং সেই প্ররোচনায় আত্মহত্যা সংঘটিত হয়, তবে অপরাধী সর্বোচ্চ কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এই মামলায় বাদীপক্ষ আদালতে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং দোষীরা আইনের আওতায় আসবে বলে আমরা আশাবাদী।

মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, আত্মহত্যার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।