নওগাঁয় মাছ চোর ঠেকাতে আত্রাই নদীর বুকে সিসি ক্যামেরা
নওগাঁর আত্রাই নদীর বুড়িদহ ঘাট মৎস্য অভয়াশ্রম রক্ষায় এক অনন্য ও প্রযুক্তিনির্ভর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন। অসাধু মৎস্য শিকারিদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে এবং দেশীয় মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে নদীর বুকে বসানো হয়েছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সিসি ক্যামেরা। এই আধুনিক ব্যবস্থার ফলে এখন দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই মোবাইলের মাধ্যমে নদীপথের ওপর নজরদারি করা সম্ভব হচ্ছে।
মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আখতার জাহান সাথীর পরিকল্পনায় ও উদ্যোগে এই ‘স্মার্ট মনিটরিং’ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আত্রাই নদীর বুকে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা। রাতের আঁধারেও যাতে নদীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য খুঁটিতে স্থাপন করা হয়েছে সৌরশক্তি চালিত সোলার লাইট। এতে রাতের বেলাতেও পুরো অভয়াশ্রম এলাকা আলোকিত থাকছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে একটি অসাধু চক্র বুড়িদহ অভয়াশ্রম এলাকায় কারেন্ট জাল, বড়শি ও হুইল ব্যবহার করে অবৈধভাবে মাছ শিকার করে আসছিল। বিশাল নদী এলাকা হওয়ায় এবং জনবল সংকটের কারণে সবসময় পাহারা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছিল। এই সমস্যা সমাধানেই প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।
নদীতে স্থাপিত ক্যামেরাগুলো বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে মান্দা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা দীপঙ্কর রায়ের মুঠোফোনে সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে তিনি অফিসে বা বাসায়—যেখানেই থাকুন না কেন, মুহূর্তেই নদীর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন।
মৎস্য কর্মকর্তা দীপঙ্কর রায় বলেন, “এখন অ্যাপসের মাধ্যমে আমরা ২৪ ঘণ্টা অভয়াশ্রমের ওপর ডিজিটাল নজরদারি রাখছি। অফিস সময়ের বাইরেও যেকোনো স্থান থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখা যাচ্ছে। কেউ অবৈধভাবে মাছ শিকারের চেষ্টা করলে ক্যামেরা দেখে দ্রুত স্থানীয় সুবিধাভোগীদের জানানো হয় এবং তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”
মৎস্য বিভাগ আশা করছে, এই কড়া নজরদারির ফলে আইড়, বোয়াল, চিতলসহ বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় প্রজাতির মাছগুলো নির্বিঘ্নে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে। এতে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন বাড়বে এবং স্থানীয় আমিষের চাহিদা পূরণে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, “বুড়িদহ অভয়াশ্রমে মাছ চুরির উপদ্রব কোনোভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছিল না। তাই এডিবির অর্থায়নে আমরা এই বিশেষ সংরক্ষণ প্রকল্প গ্রহণ করেছি। সিসি ক্যামেরা ও সোলার লাইটের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের ফলে অবৈধ মৎস্য শিকার বন্ধ হবে বলে আমরা আশাবাদী। এই প্রকল্পটি সফল হলে উপজেলার অন্যান্য অভয়াশ্রমেও একই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
What's Your Reaction?
আব্দুল মজিদ মল্লিক, জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁঃ