‘মেসির ফাউলটি শতভাগ লাল কার্ড ছিল’–রেফারির ভূমিকার সমালোচনা ফুটবল পণ্ডিতের

অনলাইন ডেস্কঃ
১৭ জুন, ২০২৬ ৯:৫০ পিএম
শেয়ার করুন:
‘মেসির ফাউলটি শতভাগ লাল কার্ড ছিল’–রেফারির ভূমিকার সমালোচনা ফুটবল পণ্ডিতের

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দারুণ জয় দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। কানসাসের অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে তারা। দলের হয়ে চোখধাঁধানো এক হ্যাটট্রিক করে বিশ্বরেকর্ড ছুঁয়েছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তবে এই রাজকীয় পারফরম্যান্সের মাঝেও ম্যাচের একটি বিতর্কিত ঘটনা নিয়ে তোলপাড় চলছে ফুটবল বিশ্বে। আলজেরিয়ার এক ডিফেন্ডারকে করা মেসির একটি বিপজ্জনক ফাউল সত্ত্বেও রেফারি তাকে কোনো কার্ড না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

মাঠের সেই বিতর্কিত ঘটনা
ম্যাচের দ্বিতীয় অর্ধের একটি ঘটনায় আলোচনার ঝড় উঠেছে। আলজেরিয়ার সেন্টার-ব্যাক আইসা মান্দিকে একটি ট্যাকল করেন মেসি। টেলিভিশন রিপ্লেতে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, আর্জেন্টাইন অধিনায়কের বুটের তলা সরাসরি আঘাত করে মান্দির পায়ের পেছনের অংশে। আঘাতটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল যে সঙ্গে সঙ্গেই আলজেরিয়ার সাইডবেঞ্চ থেকে মেসিকে লাল কার্ড দেখানোর জোর দাবি ওঠে। 

কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে ম্যাচের রেফারি সিমন মারচিনিয়াক মেসিকে কোনো কার্ডই দেখাননি। এমনকি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘটনাটি পুনর্বিবেচনা করার প্রয়োজনও বোধ করেননি তিনি। আর এ নিয়েই ফুটবল মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—বড় তারকারা কি তবে মাঠের নিয়মের ঊর্ধ্বে?

‘শতভাগ লাল কার্ড ছিল’: ফুটবল পণ্ডিতদের ক্ষোভ
ম্যাচ পরবর্তী বিশ্লেষণে ইএসপিএনের জনপ্রিয় ফুটবল পণ্ডিত আলে মোরেনো ও নেদুম ওনুওহা রেফারির এমন সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন। 

মোরেনো সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “লিওনেল মেসির এটি শতভাগ লাল কার্ড ছিল। এই ঘটনাটি সেই পুরনো ধারণাকেই আবারও সত্যি প্রমাণ করল যে, মাঠের বড় তারকারা সবসময় বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকেন।” 

মোরেনো আরও একটি বিষয় সামনে এনে বলেন, মেসি যখন হ্যাটট্রিকের সুযোগ হাতছাড়া করেন এবং আলজেরীয় গোলরক্ষক লুকা জিদান তা রুখে দেন, তখন ক্যামেরায় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে হাসতে দেখা যায়। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের দৃশ্য সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের মনে পক্ষপাতিত্বের সন্দেহ তৈরি করে।

আরেক বিশ্লেষক নেদুম ওনুওহাও একই সুরে কথা বলেন। তিনি ধারাভাষ্যকারদের সমালোচনা করে বলেন, “ট্যাকলটি যে কতটা বিপজ্জনক ছিল, তা আমরা রিপ্লে দেখে বুঝেছি। অথচ ধারাভাষ্যে এটিকে প্রায় এড়িয়ে গিয়ে বলা হচ্ছিল— মেসিকে প্রেসিং করতে দেখে ভালো লাগছে! ফাউলটি করার পর মেসি নিজেও বেশ চিন্তিত ছিলেন, কারণ তিনি জানতেন যে বড় শাস্তি পেতে যাচ্ছেন। ভিএআর কীভাবে এটিকে সাধারণ ঘটনা হিসেবে এড়িয়ে গেল, তা আমার কাছে অবিশ্বাস্য।”

বিতর্কের মাঝেও মেসির রাজকীয় রেকর্ড
ফাউল বিতর্ক একপাশে সরিয়ে রাখলে বল পায়ে ৩৮ বছর বয়সী মেসি ছিলেন যথারীতি অনন্য। প্রথমার্ধে দূরপাল্লার এক দর্শনীয় শটে গোল খোলার পর ম্যাচের ৭৬ মিনিটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। 

এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের মহাকীর্তিতে ভাগ বসালেন মেসি। একই সাথে সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে চলতি আসরের গোল্ডেন বুটের দৌড়েও এগিয়ে গেলেন এই আর্জেন্টাইন জাদুকর।

স্বস্তিতে আর্জেন্টিনা শিবির
রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তটি শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা দলের জন্য এক বিরাট স্বস্তি নিয়ে এসেছে। আসরের শুরুতেই দলের সবচেয়ে বড় তারকা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে কিংবা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়লে শিরোপা ধরে রাখার মিশন বড় ধাক্কা খেতে পারত। কোনো কার্ডের মুখোমুখি না হওয়ায় স্বস্তিতে থাকা মেসি এখন গ্রুপ পর্বের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে নিজের গোলসংখ্যা ও রেকর্ডকে আরও উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই মাঠে নামবেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।