বিশ্বকাপে আবারও মন জিতলেন জাপানি সমর্থকরা

অনলাইন ডেস্কঃ
১৫ জুন, ২০২৬ ৪:৫৭ পিএম
শেয়ার করুন:
বিশ্বকাপে আবারও মন জিতলেন জাপানি সমর্থকরা

চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ২-২ গোলে ড্র করেছে জাপান। মাঠে ফুটবলাররা লড়াই করেছেন শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত, আর মাঠের বাইরে গ্যালারি মাতালেন জাপানি সমর্থকেরা। ম্যাচ শেষ হতেই তাঁদের দেখা গেল এক পরিচিত ও প্রশংসনীয় ভূমিকায়—হাতে প্লাস্টিক ব্যাগ নিয়ে স্টেডিয়ামের গ্যালারি পরিষ্কার করতে।

লড়াকু ড্রয়ে মূল্যবান এক পয়েন্ট
ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে শক্তিশালী ডাচদের বিপক্ষে দুইবার পিছিয়ে পড়েও অসাধারণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে হাজিমে মোরিয়াসুর দল। ম্যাচের ৫১ মিনিটে ভার্জিল ফন ডাইক নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে নেওয়ার পর কেইতো নাকামুরার গোলে সমতায় ফেরে ব্লু সামুরাইরা। এরপর ক্রিসেনসিও সামারভিল আবারও ডাচদের লিড এনে দিলে পরাজয় যখন জাপানের সামনে চোখ রাঙাচ্ছিল, ঠিক তখনই ৮৯ মিনিটে দাইচি কামাদার চমৎকার গোল জাপানকে এনে দেয় সমতা (২-২)। 

মাঠের পর গ্যালারিতেও জাপানি জাদু
ম্যাচের চরম উত্তেজনা ও আবেগের রেশ কাটার আগেই জাপানি সমর্থকেরা তাঁদের চিরচেনা দায়িত্ববোধের পরিচয় দেন। খেলা শেষে স্টেডিয়াম যখন ফাঁকা হতে শুরু করে, তখন গ্যালারির যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা নিজ দায়িত্বে কুড়িয়ে ব্যাগে ভরতে শুরু করেন তাঁরা। 

এটি অবশ্য ফুটবল বিশ্বকাপে জাপানিদের জন্য নতুন কিছু নয়। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে নাটকীয়ভাবে হেরে বিদায় নেওয়ার পরও গ্যালারি পরিষ্কার করে বিশ্বজুড়ে তুমুল প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন জাপানি সমর্থকেরা। সেবার জাপানি ফুটবলাররাও ড্রেসিংরুম ঝকঝকে করে রেখে গিয়েছিলেন এবং রুশ ভাষায় লিখে রেখেছিলেন ‘ধন্যবাদ’ বার্তা। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও জার্মানি ও স্পেনকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার উদযাপনের ফাঁকেও একই চিত্র দেখা গিয়েছিল। 

সংস্কৃতি ও ফুটবলের মেলবন্ধন
জাপানিদের এই আচরণ কোনো লোকদেখানো প্রচারণার অংশ নয়, বরং এটি তাঁদের মজ্জাগত সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ। জাপানি সমাজে শৈশব থেকেই বিদ্যালয়, খেলার মাঠ ও জনপরিসর পরিষ্কার রাখার শিক্ষা দেওয়া হয়। বিশ্বমঞ্চের গ্যালারিতেও তাঁরা তাঁদের এই সুশৃঙ্খল অভ্যাসের সুন্দর রূপটি ফুটিয়ে তুললেন। 

তবে জাপানিরা নিজেদের শুধু 'গ্যালারি পরিষ্কারকারী সমর্থক' হিসেবে আটকে রাখতে চান না। তাঁরা চান বিশ্ববাসী যেন তাঁদের ফুটবলের লড়াকু মনোভাবকেও সমানভাবে মূল্যায়ন করে। ডাচদের বিপক্ষে এই ম্যাচটি প্রমাণ করেছে যে, মানসিক শক্তি ও ফুটবলের কৌশলেও তারা কতটা পরিপক্ব।

ফুটবল কেবল মাঠের ৯০ মিনিটের খেলা কিংবা পয়েন্ট টেবিলের হিসাব-নিকাশ নয়; এটি সংস্কৃতিরও এক নান্দনিক মেলবন্ধন। ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে জাপানি সমর্থকেরা আবারও দেখিয়ে দিলেন—মাঠের খেলায় যেমন শেষ পর্যন্ত লড়তে হয়, মাঠের বাইরেও তেমনি দায়িত্বশীলতার স্বাক্ষর রাখতে হয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।