গত ১২ বছর তাদেরকে কোথাও দেখিনি: জামায়াতকে প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্কঃ
১৭ জুন, ২০২৬ ৯:৩০ পিএম
শেয়ার করুন:
গত ১২ বছর তাদেরকে কোথাও দেখিনি: জামায়াতকে প্রধানমন্ত্রী

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যারা অতীতে বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন আন্দোলন খেলা খেলেছিল এবং নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল, তারাই এখন বলছে সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "যারা বলে সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না, তারা আসলে কার স্বার্থে কথা বলছে— জনগণের নাকি নিজেদের?" 

বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সরকারের তৃতীয় ধাপের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ষড়যন্ত্রের রাজনীতি ও অতীত স্মৃতিচারণ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ আগামী পাঁচ বছরের জন্য বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার রায় দিয়েছে। যারা এই গণরায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে, তাদের বিষয়ে দেশবাসীকে সজাগ থাকতে হবে। ১৯৭১ ও ১৯৮৬ সালের বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "গত ১২ বছর তাদেরকে কোথাও দেখা যায়নি। এই দীর্ঘ সময়ে কোথাও কেউ মারা গেলে দেখা গেছে তিনি ছাত্রদলের কর্মী, আর কোথাও কেউ গুম হলে জানা গেছে তিনি যুবদলের কর্মী।" 

জনকল্যাণমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা
সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের চার কোটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং তিন কোটি কৃষককে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে আগামী এক বছরেই ৪০ লাখ পরিবারে ফ্যামিলি কার্ড এবং সমান সংখ্যক কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। 

এ ছাড়াও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল পোশাক ও স্কুলব্যাগ সরবরাহ, মসজিদ-মাদরাসা ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের প্রধানদের ন্যূনতম সম্মানী প্রদান, খাল পুনঃখনন এবং আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। সাধারণ মানুষের স্বস্তির জন্য চলমান বাজেটে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে কর (ট্যাক্স) প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পাচার রোধ ও সর্বজনীন সরকার গঠন
দেশের সম্পদ পাচার রোধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে সরকারপ্রধান বলেন, "জনগণের টাকা আর বাইরে পাচার হতে দেওয়া হবে না। এই অর্থ দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে। আমরা যদি সবাই চোখ-কান খোলা রাখি, তবে দেশের অর্থ-সম্পদ কেউ বিদেশে পাচার করতে পারবে না।"

তিনি আরও বলেন, দেশে এখন বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের পর সরকার কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়, বরং সবার জন্য কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "১২ ফেব্রুয়ারি আমরা হয়তো একটি দল ছিলাম, কিন্তু ১৭ তারিখ থেকে আমরা দেশের প্রতিটি মানুষের সরকার। যারা আমাদের ভোট দিয়েছেন এবং যারা দেননি— আমরা সবার সরকার এবং সবার কল্যাণে কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য।"

অনুষ্ঠানের অন্যান্য বিবরণ
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান এবং মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকু, নাসির উদ্দিন আহমেদ এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী বিমানযোগে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখান থেকে সড়কপথে বিশেষ বাসে চড়ে দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া মাঠে আসেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে গোটা মৌলভীবাজারে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠান শেষে রাতে তাঁর ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।