তিস্তায় আরেকটি ব্যারেজ করতে চায় সরকার: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্কঃ
১৭ জুন, ২০২৬ ৯:১৬ পিএম
শেয়ার করুন:
তিস্তায় আরেকটি ব্যারেজ করতে চায় সরকার: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণের লক্ষ্যে তিস্তা নদীতে আরও একটি ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে কারিগরি ও আর্থিক বিষয়গুলো বিভিন্ন পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান এ কথা জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এ প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তিস্তা নদীকেন্দ্রিক টেকসই ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এরই মধ্যে একটি সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনার আওতায় ১১০ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং, ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও বাঁধের ওপর সড়ক নির্মাণ, ৬৭টি গ্রোয়েন বা স্পার নির্মাণ ও মেরামত এবং ১৭০ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধারসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের প্রস্তাব রয়েছে।”

হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে টিকাদানে জোর
জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিকে (ইপিআই) সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। 

প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “আন্তর্জাতিক মান ও সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করেই টিকা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ করা হয়। টিকা সংগ্রহ পদ্ধতির কোনো পরিবর্তনের কারণে কার্যক্রমে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কি না, তা তথ্য-উপাত্ত ও কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতে খতিয়ে দেখা হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” 

তিনি আরও জানান, টিকা সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, মজুত ব্যবস্থাপনা জোরদার করা, রোগের নজরদারি সম্প্রসারণ এবং দ্রুত প্রাদুর্ভাব শনাক্ত করতে বিশেষ কার্যক্রম চলছে।

সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ও পাবনা মানসিক হাসপাতালের আধুনিকায়ন
দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির আলোকে দেশের মানুষের জন্য সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। এরই অংশ হিসেবে পাবনা মানসিক হাসপাতালকে আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

২০৩০ সালের মধ্যে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্য
পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের পানি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান দেশের পানি ব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, ঢাকা ওয়াসার সরবরাহকৃত পানির প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে এবং অবশিষ্ট অংশ পদ্মা, মেঘনা ও শীতলক্ষ্যা নদীসহ বিভিন্ন ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “খুলনা ও বরিশালে নদীর পানিতে লবণাক্ততা থাকায় সেখানে বড় আকারের পানি শোধনাগার স্থাপনসহ বিকল্প জলাধার নির্মাণের কাজ চলছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সব বিভাগীয় শহরে ভূগর্ভস্থ পানির নির্ভরতা কমিয়ে শতভাগ ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।