ইরান-মার্কিন চুক্তি নেতানিয়াহুর ‘ব্যক্তিগত পরাজয়’: ইসরাইলি বিশ্লেষক

অনলাইন ডেস্কঃ
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:৫৮ পিএম
শেয়ার করুন:
ইরান-মার্কিন চুক্তি নেতানিয়াহুর ‘ব্যক্তিগত পরাজয়’: ইসরাইলি বিশ্লেষক

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক চুক্তিকে ইসরাইলের বড় ধরনের কূটনৈতিক বিপর্যয় এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত পরাজয় হিসেবে দেখছেন দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 

খ্যাতনামা ইসরাইলি রাজনৈতিক বিশ্লেষক গিদন লেভি কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানকে প্রতিহত করা ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশটিকে কোণঠাসা করে রাখা ছিল নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বা ‘লাইফ প্রজেক্ট’। তবে বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে, এই আলোচনা থেকে ইসরাইল সম্পূর্ণরূপে বাদ পড়েছে। এখন তাদের সামনে কেবল কিছু চোরাগোপ্তা বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানো ছাড়া বড় কোনো পথ খোলা নেই।

সম্প্রতি বৈরুতে চালানো ইসরাইলি হামলার প্রসঙ্গ টেনে গিদন লেভি সেগুলোকে ‘হাস্যকর ও শিশুসুলভ আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “এখন এটি অত্যন্ত পরিষ্কার যে, এই খেলায় ইসরাইল কেবলই হেরেছে।”

ইসরাইলকে নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে এই বিশ্লেষক বলেন, ট্রাম্পের দেওয়া প্রতিশ্রুতি কতটা কার্যকর হবে তা এখনো দেখার বিষয়। কারণ, ইসরাইলের নিজস্ব শর্ত বা অগ্রাধিকারগুলো পূরণ না হলে নেতানিয়াহু যেকোনো উপায়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তি নস্যাৎ করার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

লেবানন সংকটের সঙ্গে এই চুক্তির গভীর সংযোগ রয়েছে উল্লেখ করে লেভি বলেন, “পরিস্থিতি অত্যন্ত ভঙ্গুর ও নাজুক। ইরান খুব সুকৌশলে লেবানন পরিস্থিতিকে এই চুক্তির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।” 

তিনি বর্তমান সংকট ব্যাখ্যা করে বলেন, লেবাননের মাটিতে এখনো ইসরাইলি সেনা অবস্থান করছে এবং সেখান থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহারের কোনো লক্ষণ নেই। গিদন লেভির মতে, যতদিন লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরাইলি দখলদারিত্ব বজায় থাকবে, ততদিন সেখানে প্রতিরোধ বাহিনীগুলোর পক্ষ থেকে প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে। ফলে কোনো ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়া অত্যন্ত কঠিন হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।