ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির আশঙ্কা: ইরানে হামলা জোরদারে নেতানিয়াহুর তড়িঘড়ি নির্দেশ
যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেকোনো সময় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে পারেন—এমন আশঙ্কায় ইরানের ওপর বিমান হামলা আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মূলত যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও অস্ত্র শিল্পকে যতটা সম্ভব গুঁড়িয়ে দেওয়াই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু এবং নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হামলার তীব্রতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন নেতানিয়াহু। তিনি চান, শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বড় একটি অংশ ধ্বংস করতে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসের একটি ১৫ দফা ‘যুদ্ধ-সমাপ্তি পরিকল্পনা’ বা পিস প্ল্যান ইসরায়েল সরকারের হাতে এসেছে। ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকদের ধারণা, এই পরিকল্পনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কমানোর বিষয়ে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেই। নেতানিয়াহুর আশঙ্কা, ডোনাল্ড ট্রাম্প যেকোনো মুহূর্তে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়ে দিতে পারেন, যার ফলে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান থমকে যাবে।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট একটি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, গণমাধ্যমে প্রচারিত শান্তি পরিকল্পনার সব তথ্য সঠিক না হলেও এর কিছুটা সত্যতা রয়েছে।
যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া নিয়ে ইসরায়েলি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে স্পষ্ট বিভক্তি দেখা দিয়েছে। জ্যেষ্ঠ কমান্ডারদের একটি অংশ মনে করছেন, যুদ্ধের শুরুতেই বড় সাফল্য অর্জিত হয়েছে, তাই এখন আন্তর্জাতিক চাপ এবং অর্থনৈতিক ব্যয় বিবেচনায় দ্রুত যুদ্ধ শেষ করা উচিত। অন্যদিকে, কট্টরপন্থীরা চান অন্তত আরও এক সপ্তাহ ব্যাপক হামলা চালিয়ে ইরানের কোমর ভেঙে দিতে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। অসমর্থিত রিপোর্ট অনুযায়ী, নিহতের তালিকায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও রয়েছেন।
এই সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বিমান চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ট্রাম্প ইতিমধ্যে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে পর্দার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার গুঞ্জনও জোরালো হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে, যা নেতানিয়াহুর জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ