ঈদের আনন্দ নেই আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দাদের, কেনা হয়নি ঈদের সামান্য কেনাকাটাও

জাকির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টারঃ
Mar 20, 2026 - 17:14
Mar 20, 2026 - 17:14
ঈদের আনন্দ নেই আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দাদের, কেনা হয়নি ঈদের সামান্য কেনাকাটাও

সারাদেশ যখন ঈদের আনন্দে মেতে উঠেছে, নতুন জামা-কাপড় আর সুস্বাদু খাবারের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ঠিক সেই মুহূর্তে একেবারেই ভিন্ন চিত্র ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বড় লক্ষণদিয়া গ্রামের আশ্রয়ন প্রকল্পে। এখানে নেই ঈদের হাসি, নেই কোনো উৎসবের আমেজ বরং আছে হতাশা, অনিশ্চয়তা আর না পাওয়ার দীর্ঘশ্বাস।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ পরিবারের ঘরেই ঈদের কোনো প্রস্তুতি নেই। নেই সেমাই, চিনি, দুধ কিংবা মাংস কেনার সামর্থ্য। অনেক শিশুই এখনও জানে না, ঈদে তারা নতুন পোশাক পাবে কিনা।

ষাটোর্ধ্ব বিধবা কমেলা বেগম ভাঙা কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামী-ছেলে কেউ নাই। নাতনি কাজ করে যা আয় করে, তাই দিয়ে কষ্টে দিন চলে। একটা টিসিভি কার্ড আছে, তাও নিয়মিত পাই না। চেয়ারম্যানের কাছে অনেকবার গেছি, কিন্তু কোনো ভিজিডি, বয়স্ক বা বিধবা ভাতা পাইনি। এই বয়সে কোথায় যাবো?

একই আক্ষেপ জানালেন জানারা বেগম। তিনি বলেন, তিন বছর ধরে এখানে থাকি। একটা মেয়ে বিয়ে দিয়েছি, ছেলে নাই। স্বামী অসুস্থ, কোনো কাজ করতে পারে না। আমি মানুষের কাছে হাত পেতে যা পাই, তা দিয়েই সংসার চালাই। সরকারি কোনো সাহায্য পাই না। ঈদ আসছে, কিন্তু ঘরে কিছুই নাই।

আশ্রয়ন প্রকল্পের আরও কয়েকজন বাসিন্দা রাবিয়া বেগম, সাহেরা বেগম, জিয়াসমিন বেগম, চায়না বেগম, পাখি বেগম, আবে বেগম ও তাসলি বেগম করুণ সুরে জানান, “আমরা শুধু একটা ঘর পেয়েছি, কিন্তু জীবিকা নেই। স্বামীরা ঠিকমতো আয় করতে পারে না। অনেক সময় আমাদের অন্যের বাড়িতে কাজ করতে যেতে হয়। ঈদ সামনে, কিন্তু এখনো বাজার করতে পারিনি। সন্তানদের জন্য নতুন জামা কিনতে পারিনি এটাই সবচেয়ে কষ্টের।

স্থানীয়দের মতে, আশ্রয়ন প্রকল্পের অনেক পরিবারই নিয়মিত সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত। ফলে ঈদের মতো আনন্দের উৎসবও তাদের কাছে হয়ে উঠেছে বেদনার প্রতীক।

ঈদ মানেই যেখানে আনন্দ, ভাগাভাগি আর খুশির বার্তা সেখানে এই মানুষগুলোর জীবনে ঈদ এসেছে নিরব, নিঃশব্দ আর বিষণ্ণ হয়ে।

গট্টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাভলু ইত্তেফাককে বলেন, আমি সেদিনও প্রতিজনকে ৫ হাজার টাকার প্যাকেজ দিয়েছি। তিনজনকে ১০ কেজি করে চাউল দিয়েছি। সামনে আবেদন করলে বয়স্ক ও বিধবা ভাতা করে দিবো। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, আশ্রয়ন প্রকল্পে দেওয়ার জন্য সরকার কোনো সুযোগ সুবিধা দেয় নাই। এমন যদি হতো সরকার সুয়োগ সুবিধা দিয়েছে আমি দেই নাই তাহলে একটা কথা ছিল। সরকার বিভিন্ন ধরনের স্কিম রেডি করছে। সরকার যেভাবে বলে আমরা সেভাবে কাজ করবো। সরকার হয়তো তাদের আওতায় আনবে, একটু সময় দিতে হবে। কেউ বাদ যাবে না। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow