বেনজীর সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য নেই পুলিশের কাছে

অনলাইন ডেস্কঃ
১৮ জুন, ২০২৬ ১০:২৪ এএম
শেয়ার করুন:
বেনজীর সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য নেই পুলিশের কাছে

দুবাইয়ে গ্রেফতার হওয়া সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াটি সহজ ও দ্রুত করতে আপাতত কেবল দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা পাসপোর্ট জালিয়াতি ও দুর্নীতির ৬টি মামলার নথিপত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই এসব নথিপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, যা কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে দ্রুতই সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছে পাঠানো হবে।

অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা ও গুঞ্জন
গ্রেফতারের পর বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ের ঠিক কোথায় আছেন, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য এখনো বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) শাখার কাছে নেই। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে, গ্রেফতারের পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াটি এখন দেশজুড়ে অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

আইনি জটিলতা ও দুবাইয়ের আইনগত দিক
সাবেক এই পুলিশ প্রধানকে দেশে ফিরিয়ে আনা বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পুলিশ সদর দপ্তরের সাবেক একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, দুবাই কিংবা মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে বিদেশী নাগরিকরা বিশেষ নিরাপত্তা ও বসবাসের সুবিধা পেয়ে থাকেন। দুবাইয়ের আইন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সেখানে কোনো অপরাধে জড়িত না থাকলে তাকে অন্য দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি বেশ জটিল। 

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের পাঠানো প্রত্যর্পণ অনুরোধ ও নথিপত্র পাওয়ার পর তা নিবিড়ভাবে যাচাই করবে। দেশটির আদালত খতিয়ে দেখবেন—বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে আনা অভিযোগগুলো আমিরাতের আইনেও অপরাধ কি না। একই সাথে বাংলাদেশে তিনি ন্যায়বিচার পাবেন কি না, তা পর্যালোচনার পরই তাকে ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন আমিরাতের আদালত।

কেন শুধু দুদকের মামলাকে বেছে নেওয়া হলো?
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ১৭টি, দুদকের ৬টি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) ৩টি মামলা রয়েছে। আইসিটির অভিযোগগুলোর মধ্যে গুম ও গণহত্যার মতো গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তবে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে জটিলতামুক্ত ও দ্রুত করতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো শুধু দুদকের দুর্নীতি ও জালিয়াতির মামলাগুলোকে সামনে রেখে এগোচ্ছে। ইতিমধ্যে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জারি হওয়া ওয়ারেন্টের কপি আরবিতে অনুবাদ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বক্তব্য
পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, এনসিবি শাখা থেকে রেড নোটিশ জারি করার পর পুলিশের প্রাথমিক কাজ শেষ হয়েছে। এখন বাকি প্রক্রিয়া কূটনৈতিক ও আইনিভাবে সম্পন্ন হবে। 

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সব তথ্য-উপাত্ত গুছিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে শিগগিরই আরব আমিরাত সরকারকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।